
ওয়াশিংটন : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে? ইরান-আমেরিকার যুদ্ধে কি অবশেষে বিরতি আসবে? নাকি আরও বড় আকার ধারণ করবে এই সংঘাত। ট্রাম্পের যা ইঙ্গিত, তাতে আজ রাতেই ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে চলেছে। গতকালই ট্রাম্প তাঁর পোস্টে, মঙ্গলবার ইরানের উপর হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার আরও বড় হুঁশিয়ারি দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এক রাতের মধ্যেই ইরান ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ়ের সাংবাদিক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “চাইলে এক রাতেই গোটা ইরান ধ্বংস করে দিতে পারে আমেরিকা। সেই রাত হতে পারে মঙ্গলবারই।” অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে ফের ইরানের উপর প্রবল প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকী, গোটা ইরান ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে বিস্ফোরক পোস্টও করেন। সেখানে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য পরিকাঠামোতে হামলা চালানো হবে। তাঁর দাবি, যদি তেহরান কোনও চুক্তিতে রাজি না হয় বা হরমুজ পুনরায় না খোলে, তাহলে বড়সড় পদক্ষেপ করা হবে।
রবিবারই নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা, ইস্টার্ন টাইম!” এই পোস্ট দেখেই সকলের অনুমান, এই সময়ে ইরানের উপরে হামলা চালাবে আমেরিকা। ভারতীয় সময়ে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগদ এই হামলা হতে পারে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে ইরান। পাল্টা আমেরিকাকে ১০ শর্ত দিয়েছে তেহরান। ওই শর্তে যুদ্ধ শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে। যার মধ্যে লেবানন এবং গাজ়া-তেও সংঘর্ষ বন্ধের কথা বলা হয়েছে। এরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উপর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরানের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে হরমুজ়ের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দিতে হবে। সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। যুদ্ধের কারণে হওয়া আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চাইছে কারণ তারা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমি তাদের যুদ্ধ শেষ করার সুযোগ দিয়েছি, কিন্তু তারা সেই সুযোগ নেয়নি।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত একমাত্র তাঁরই হাতে। ট্রাম্প বলেন, “কে যুদ্ধবিরতি দেবে, সেটা শুধু আমিই ঠিক করব। আমি এখনও কোনও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করিনি।”