
ওয়াশিংটন: মার্কিন সফরে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনদিনের এই সফরের দিকে নজর গোটা বিশ্বের। কারণ দুই বৈশ্বিক শক্তির প্রধানরা একসঙ্গে হলে, তারা কী করবেন, বলবেন- তা নিয়ে আগ্রহ থাকবেই। দুই রাষ্ট্রনেতা অর্থাৎ চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকালই মুখোমুখি হন। কী আলোচনা হল সেই বৈঠকে?
চিনের প্রেসিডেন্টের জন্য হোয়াইট হাউসে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন টেসলা (Tesla) প্রধান ইলন মাস্ক থেকে শুরু করে অ্যাপেলের কর্ণধার টিম কুক, এনভিডিয়া(Nvidia)-র জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআই (OpenAI)-র স্যাম অল্টম্যান। এদের উপস্থিতিই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ট্রাম্প-জিনপিংয়ের সাক্ষাতে বাণিজ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই (artificial intelligence) সবথেকে বেশি প্রাধান্য পেতে চলেছে।
নৈশভোজে ট্রাম্প টোস্ট করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট শি ও আমি-দুজনেই বুঝি যে আমরা আলাদা ব্যবস্থাকে প্রতিনিধিত্ব করি, কিন্তু আমাদের দেশের মানুষদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এর থেকে ভালো সম্পর্কে আগে ছিলাম না। আমরা একসঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করছি যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উন্নতি ও সুরক্ষা প্রচার করে।”
শি জিনপিংও টোস্ট করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকাকে আবার সেরা বানানোর অঙ্গীকার নিয়েছেন। চিনও জাতীয় পুনরুজীব্বনের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই দুটি লক্ষ্যই উচ্চাভিলাষী এবং নিঃসন্দেহে একে অপরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।”
জানা গিয়েছে, মার্কিন ও চিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবথেকে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া তাইওয়ান ইস্যু ও বাণিজ্য নিয়েও কথা হয়।
আমেরিকা ও চিন তাদের শুল্ক যুদ্ধ আপাতত স্থগিত রেখেছে। দুই মাস মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলেই জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটাকি স্কট বেসেন্ট। তবে শুল্ক বা ট্যারিফ, চিনের থেকে পণ্য কেনা, বিরল মৃত্তিকা সরবরাহ ও প্রযুক্তি নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা নিয়ে বিশেষ কোনও অগ্রগতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইতিবাচক খবর মেলেনি।
ট্রাম্পের কাছে তাইওয়ান ইস্যু তুলে ধরেন শি জিনপিং। তিনি বলেন যে বেজিং আশা করছে যে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের বিষয়টি বিচক্ষণতার সঙ্গে সামলাবে। তাইওয়ানের স্বাধীনতা নিয়ে আমেরিকা আপত্তি করবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন জিনপিং। তবে হোয়াইট হাউস এই নিয়ে কোনও বিবৃতি জারি করেনি।
দুই নেতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে আলাদা মত প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প মনে করেন, এআই-তে নতুন করে কোনও কড়া নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। তিনি চান, এআই এখন যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলতে দেওয়া হোক। তাঁর মতে, প্রয়োজনে মার্কিন ন্যায়বিচার দফতর বিষয়টি দেখবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চিনের মতও একই।
তবে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভিন্ন কথা বলেছেন। তাঁর মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে চিন ও আমেরিকা দু’দেশেরই দায়িত্ব রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির পাশাপাশি এর ব্যবহারও সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। শি বলেন, “এআই যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতিই ওপেনএআই থেকে শুরু করে এনভিডিয়া- সকলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কতটা ব্যবহার করা উচিত এআই- তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উল্টোদিকে চিনে এআই-র বিপুল ব্যবহার হয়। সেখানে জিনপিংয়ের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।