
নয়া দিল্লি: যত তদন্ত এগোচ্ছে, ততই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে ফ্লাইদুবাইয়ের কো-পাইলট হাম্মাম আল হামিমি সম্পর্কে। এই হামিমিই ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানটি হাইজ্যাক করে ক্র্যাশ করানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতা ও বীরত্বের জন্যই ১৭৫ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচে। আগেই জানা গিয়েছিল, কো-পাইলট হামিমি উগ্র ও চরমপন্থী মনোভাবকে সমর্থন করতেন। এবার জানা গেল যে ৯/১১-র হামলার স্টাইলেই এই বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
সিবিএস নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হাম্মাম আল হামিমি নামক ওই কো-পাইলট ৯/১১-র ধাঁচে তেল আভিভের একটি উচু বিল্ডিংয়ে বিমানটিকে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা মারত। পুরো পরিকল্পনাও তৈরি ছিল তাঁর। প্রথমে সে খুন করত পাইলট স্মিত মচ্ছরকে। এরপর বিমানটি হাইজ্যাক করত এবং সোজা তেল আভিভের কোনও একটি উঁচু বিল্ডিংয়ে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা মারত। ইজয়ালের তদন্তে উঠে এসেছে যে এই গোটা হামলার পরিকল্পনা একাই করেছিল বছর উনত্রিশের ওই ওমানের নাগরিক।
হামিমি ভেবেই রেখেছিল যে ককপিটের ভিতরে গোপনে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে খুন করবে। সম্ভবত বিমানের ইঞ্জিনও শাট অফ করে দিয়েছিল, যে কারণে বিমানটির কয়েক সেকেন্ডেই ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় পতন হয়।
বর্তমানে ওই কো-পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সেই জিজ্ঞাসাবাদেই জানা গিয়েছে যে ক্যাপ্টেনকে খুন করার পর বিমানটিকে নিয়ে তেল আভিভের বেন গুরিওন বিমানবন্দরের কাছে কোনও বিল্ডিংয়ে ধাক্কা মারত। হোমওয়ার্কের জন্য এই বিল্ডিং কয়েকবার ঘুরেও এসেছিল। তবে পছন্দমতো বিল্ডিং না পেলে, দ্বিতীয় অপশন হিসাবে অপর কোনও বিমানে ধাক্কা মারার প্ল্যানও করে রেখেছিল হামিমি।
জেরায় আরও জানা গিয়েছে, জর্ডনের আকাশসীমা পার করার পর বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। গত জুলাই মাসেই এই হামলা করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাতিল করে কারণ বিমানের একজন ক্রু তাঁর বন্ধু ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষদিনে এসে সেই পরিকল্পনাকে সফল করার চেষ্টা করে। তবে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর তা হতে দেননি।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আইন অনুযায়ী, আল হামিমিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। আবু ধাবিও চরম শাস্তির দাবি করেছে বলে এমিরেট সূত্রে খবর।