
নয়া দিল্লি: দুবাই থেকে তেল আভিভ গামী ফ্লাইদুবাইয়ের (flydubai) বিমানের হামলাকারী পাইলটকে চিহ্নিত করা গেল অবশেষে। জানা গেল, ওই পাইলটকে আগেই নিষিদ্ধ করেছিল ওমান। তাঁর চরমপন্থী ভাবনাচিন্তার জন্যই বিমান ওড়ানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি ওড়াচ্ছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর ও পাইলট হামাম আলহামামি। বিমানে ১৭০ জন যাত্রী ছিলেন। এই হামাম আলহামামিই ভারতীয় পাইলটের উপরে কুঠার দিয়ে হামলা করে, তাঁকে রক্তাক্ত করে। রিপোর্টে উঠে এসেছে যে তেল আভিভগামী ওই বিমানটিকে ইজরায়েলে ক্র্যাশ করার পরিকল্পনা ছিল হামামের। সেই উদ্দেশ্যেই পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপরে হামলা করে।
হামাম আলহামামি নামক ওই পাইলট ওমানের নাগরিক। তবে তাঁর জন্ম সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। তাঁর বাবা ওমানি, মা সিরিয়ার নাগরিক। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, আলহামামি তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময়টাই ওমানের বাইরে কাটিয়েছে। সিরিয়াতে তাঁর বেড়ে ওঠা। সেখান থেকেই চরমপন্থী ভাবনাচিন্তায় প্রভাবিত হয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে কো-পাইলট ট্রেনি হিসাবে কাজ শুরু করেছিল। সেই সময় তাঁর কাছে উগ্র ও চরমপন্থী কিছু জিনিসপত্র পাওয়া যায়। এরপরই নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসাবে কারণ দর্শিয়ে তাঁকে বিমান চালানো থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কাজ করতে দেওয়া হয় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিভাগে। ২০২৫ সালের জুন মাসে রয়াল এয়ার মারোক এয়ারলাইন্সে যোগ দেয়। এই বছর জানুয়ারিতে চাকরি ছেড়ে ফ্লাইদুবাইতে যোগ দেয়।
জানা গিয়েছে, আলহামামির উপরে ব্যান থাকা সত্ত্বেও ফ্লাইদুবাই তাঁকে পাইলট হিসাবে চাকরি দিয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও ইজরায়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে তাঁকে বিমান ওড়াতে দেওয়া হয়েছিল। মাত্র আট মাস সে এই এয়ারলাইন্সে কাজ করছিল। ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি গত বুধবার ইজরায়েলে ক্র্যাশ করার প্ল্যান ছকেছিল আলহামামি।
হামলাকারী ওই পাইলটের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে ঘটনার দিন দুটি পোস্ট করা হয়েছিল। দুটিই সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত।