
ঢাকা: হঠাৎ মত বদল বাংলাদেশের। এতদিন ভারত থেকে ইলিশ নেওয়ার পর আচমকাই বাংলাদেশ সরকার জানাল, তারা আর ভারত থেকে গুজরাটের ইলিশ নেবে না। কেন এই সিদ্ধান্ত?
বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ আসে। পদ্মার ইলিশের স্বাদ তাই বাঙালিরা খুব ভালোভাবে চেনে। তবে দীর্ঘ সময় ধরেই দুই দেশের টানাপোড়েনের কারণে সেই ইলিশ পাতে পড়ছিল না। ২০১৮ সালের পর থেকে ফের বাংলাদেশের ইলিশ আসা শুরু হয়েছিল। তবে এই বছর তার ব্যতিক্রম হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এখনও বাংলাদেশ ভারতে ইলিশ পাঠানো নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্চ্য নেই। উল্টে গুজরাটের ইলিশ আমদানিও বন্ধ করে দেওয়া হল।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের মৎস্য দফতরের তরফে ইলিশ আমদানিতে ১০৩টি ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এবার ভারত থেকে প্রায় ১,৭৪০ টন ইলিশ নিয়ে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল দিয়ে ৫৪০ টনের কাছাকাছি ইলিশ আমদানি করেছে বাংলাদেশ সরকার। তারপরই হঠাৎ এনওসি বাতিল। যদিও কেন এই সিদ্ধান্ত, তার কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।
তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, গুজরাটের ইলিশ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশের বাজারে। বিশেষ করে ডিম ভর্তি ইলিশ পছন্দ করে বাংলাদেশিরা। তাই গুজরাটের ইলিশ দেদার বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশের অনেক মৎস্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চড়া দামে ইলিশ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গুজরাটের ইলিশ, যার দাম ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, তা বাংলাদেশের বাজারে তিন-চার হাজার টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। আরও আশঙ্কা, ভারত থেকে যদি বেশি ইলিশ আসে, তাহলে বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে যাওয়ার আগ্রহ কমে যেতে পারে। সেই কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।