
তেহরান: সংঘর্ষবিরতি চলছে। সাময়িকভাবে গোলাগুলি, হামলা বন্ধ ইরান-আমেরিকার মধ্যে। এই সংঘর্ষবিরতির অন্যতম শর্তই ছিল হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে ইরানকে। সেই মতো হরমুজ প্রণালী খুলেছে ইরান, কিন্তু তারপরও এই প্রণালী দিয়ে আগের মতো যাতায়াত করতে পারছে না জাহাজ। কেন? হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) জুড়ে জলের নীচে পেঁতে রাখা আছে মাইন (Mine)। তবে এখন ইরান নিজেই মনে করতে পারছে না যে সেই মাইন কোথায় রাখা। ফলে তা আর তোলাও যাচ্ছে না।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন যে জলের নীচে রাখা মাইন ঠিক কোথায় আছে, তা চিহ্নিত করতে না পারার কারণেই ইরান হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খোলা যাচ্ছে না। যেখানে মাইন গুলি চিহ্নিত রয়েছে, সেখান থেকেও সরানোর ক্ষমতা বা দক্ষতা নেই ইরানের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছিলেন ইরান যাতে দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেয় এবং জাহাজের মুক্ত চলাচলে কোনও বাধা না দেয়। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচি বলেছেন যে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা-সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা মাথায় রেখেই হরমুজ প্রণালী খোলা হবে। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, আসল সমস্যা জলের নীচে পোঁতা মাইন-ই। ইরান তা সরাসরি স্বীকার করছে না।
বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মোট যে চাহিদা, তার এক পঞ্চমাংশই হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে যায়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষভাগে সংঘাত শুরুর লগ্ন থেকেই এই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। যুদ্ধে একদিকে যেমন ড্রোন ও মিসাইলের মাধ্যমে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছিল ইরান, তেমনই জলপথে ইরানের তুরুপের তাস ছিল এই হরমুজ প্রণালীতে পাতা মাইন।
জানা গিয়েছে, ইরান ছোট ছোট নৌকায় করে হরমুজ প্রণালীতে গিয়ে মাইন পুঁতে এসেছিল, কিন্তু তাড়াহুড়োয় সেটা এতটাই অপরিকল্পিতভাবে করেছিল যে তারা নিজেরাই মনে করতে পারছে না কোথায় মাইন পোঁতা রয়েছে। মাইন পোঁতার সময় সেই লোকেশন রেকর্ড করেছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যে মাইনগুলি পোঁতা রয়েছে, তাও জলের স্রোতে ভেসে সরে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আরও বিপদ বাড়বে। কোনও জাহাজের নোঙর বা প্রপেলার যদি এই মাইনে লাগে, তাহলে বিস্ফোরণ হবে। বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা।
ইসলামিক রেভেলিউশনারি গার্ড কর্পস ইতিমধ্যেই সুরক্ষিত রুটের একটি চার্ট প্রকাশ করেছে। তবে সেই রুটের আশেপাশেও অনেক মাইনফিল্ড রয়েছে, যেগুলি শনাক্ত করা যাচ্ছে না। একটু এদিক-ওদিক হলেই ভয়ঙ্কর বিপদ হবে।