
ঢাকা : ভারত-বাংলাদেশের (India-Bangladesh) সম্পর্কে কি কালো মেঘ ঘনাচ্ছে? হাসিনার (Seikh Hasina) পতনের পর মহম্মদ ইউনূস (Mohammad Yunus) সরকারের আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ধাক্কা খেয়েছে। তবে, তারেক রহমানের সরকার গঠনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ককে মসৃণ করার চেষ্টা চলছে। দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা হলেও উষ্ণতার বরফ গলেছে। অভ্যন্তরীন জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নয়া দিল্লি। কিন্তু, একটি ইস্যু আবারও ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে (India-Bangladesh Relation) ফাটল ধরাতে পারে। গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি নিয়ে যদি জটিলতা না কাটে তাহলে তাহলে দুই দেশের মধ্য়ে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছতে পারে। সম্প্রতি, এক বক্তব্য এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি (BNP) নেতা ও মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবন্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছর ডিসেম্বরে। তার আগে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো অর্থাৎ চুক্তি পুনর্নবীকরণের জন্য ভারতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন,বাংলাদেশ ভারতকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখে আলোচনার মাধ্যমে ভারতকে একটি নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করতে হবে। এই চুক্তির উপরই নির্ভর করবে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে পৌঁছবে।
তিনি আরও জানান, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি বা ফারাক্কা চুক্তি সাক্ষরের ওপরই নির্ভর করবে। এই বিষয়ে তাঁর আরও যুক্তি, নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান চুক্তিটি কার্যকর রাখতে হবে। তাঁর মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ জল-বণ্টন ব্যবস্থা কোনও নির্দিষ্ট মেয়াদে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
এদিকে, দিন কয়েক আগেই ফরাক্কা বাঁধ নিয়ে ভারতকে নিশানা করেছিলেন ফখরুল। তাঁর দাবি, ভারতের ফরাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি বিভিন্ন ধরনের নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণের ফলে নদীগুলির ধারা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।