
নরওয়ে: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভানেথেম নভি পিল্লে। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এই দক্ষিণ আফ্রিকান মহিলা বিচারপতি নাভানেথেম নভি পিল্লে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা বিচারপতি ছিলেন। ৮৫ বছর বয়সী পিল্লে একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) মানবাধিকার প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন। এ ছাড়াও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি এবং রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জর্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পিল্লাইকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কারকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বছর এই পুরস্কারের ১২৫তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
এ বছর সম্ভাব্য পুরস্কারপ্রাপকদের তালিকায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অভিযানকারী দল, সুদানের জরুরি পরিস্থিতিতে কাজ করা উদ্ধারকারী দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং বিশ্বের দুটি শীর্ষ আন্তর্জাতিক আদালতের নাম উঠে এসেছিল। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ভবিষ্যদ্বাণীভিত্তিক বাজারে নজর কেড়েছিলেন।
অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। বারবার তিনি দাবি করেছেন, এই পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভি পিল্লে। তার পরিবার তামিল, তবে তিনি জন্মেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় যেমন রায় দিয়েছেন, তেমনই আন্তর্জাতিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পিল্লে বর্তমানে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ধর্ষণ ও যৌন হিংসাকে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন পিল্লে। এই সংক্রান্ত একাধিক ঐতিহাসিক রায়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। পাশাপাশি, প্রচারমাধ্যম বা অপপ্রচারের মাধ্যমে গণহত্যায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টাতেও তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম লক্ষ্য হল, আন্তর্জাতিক আইনকে আরও শক্তিশালী করা এবং গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা নিশ্চিত করা।
নরওয়ের নোবেল কমিটির মতে, পিল্লের কাজ তুলে ধরে কীভাবে আন্তর্জাতিক আইন শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাতের সমাধান করতে পারে, শক্তিশালী রাষ্ট্র ও ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে পারে।
কমিটির আরও বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলির দুর্বল হয়ে পড়া এবং আইনের শাসনের উপর ক্ষমতার রাজনীতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও এই পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের নীতিগুলি বজায় রাখা এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর নোবেল কমিটি যে গুরুত্ব দিয়ে আসছে, সেই প্রেক্ষাপটেই এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।