
তেহরান : সপ্তাহখানেক আগেও ছিলেন মৃত। হঠাৎ তিনি বেঁচে উঠলেন। বাঁচিয়ে তুলল ইরান। ভাবছেন, মৃত মানুষ আবার কীভাবে বেঁচে উঠতে পারে? যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বড় নাটকীয় মোড়। আসলে, দিন কয়েক আগেই ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, ইজ়রায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের স্ত্রীর। কিন্তু, এখন সেই ইরানই দাবি করছে খামেনেইয়ের স্ত্রী বেঁচে রয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ভুয়ো। ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ়কে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা IRGC জানিয়েছে, আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজ়াদেহ জীবিত রয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ভুল ছিল। এখনও তিনি বেঁচে রয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে তিনি কোথায় রয়েছেন, তা আপাতত গোপনেই রাখা হয়েছে। এদিকে, ইরানের সরকারি টিভি চ্যানেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খামেনেইয়ের স্ত্রীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এনেছিল। এদিকে, সুপ্রিম লিডার হওয়ার প্রথম বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজ়তাবা খামেনেই। তাঁর বিবৃতিতে বাবা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর কথা উল্লেখ থাকলেও, মায়ের মৃত্যু সম্পর্ক কিছু বলতে দেখা যায়নি তাঁকে। কাকতালীয়ভাবে তারপরই খামেনেইয়ের স্ত্রীর জীবিত থাকার খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর যৌথভাবে হামলা চালায় ইজ়রায়েল ও আমেরিকা। জানা গিয়েছে, ওইদিন সকালে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। ঠিক সেই সময়ই আমেরিকার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্লু স্প্যারো নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ব্লু স্প্যারো-সহ ৩০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। ওই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। খামেনেইয়ের পাশাপাশি ইরানের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকের মৃত্যু হয়। ইরানের সংবাদমাধ্যম দাবি করে, ইজ়রায়েল-আমেরিকার হামলায় খামেনেইয়ের মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনিরও মৃত্যু হয়।
আমেরিকার হামলার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজ়াদেহ। হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ইরানের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর ছড়িয়েছিল, কোমায় চলে গিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে শহিদ বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। এবার হঠাৎ তাঁর বেঁচে ওঠার খবর প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে, খামেনেইয়ের স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করে দেওয়া কি ইরানের কোনও কূটনৈতিক চাল? এদিকে, বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য সান’ দাবি করেছে, কোমায় চলে গিয়েছেন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই। পা-ও নাকি হারিয়েছেন। কিন্তু, এই দাবির পরই সুপ্রিম লিডারের বিবৃতি প্রকাশ্যে আসে।