
প্যারিস: বাঘাযতীন, গার্ডেনরিচ, তপসিয়া, ট্যাংরা, কামারহাটি, হাওড়া। প্রায় রোজই কোথাও না কোথাও থেকে বাড়ি হেলে পড়ার খবর। বেআইনি নির্মাণ, ভুল নকশা, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, জলাজমি বুজিয়ে ফ্ল্যাট তুলে দেওয়া, পুরসভার চোখ বন্ধ করে থাকা। এমন সব নানা কারণ, নানা ব্যাখ্যা, অভিযোগ নিয়ে মুখে মুখে চলছে আলোচনা। হেলা বাড়ি কোথাও আরও হেলে ভেঙে পড়ছে। কোথাও বা আবার সে হেলে থাকলেও দাঁড়িয়ে আছে। ভেঙে পড়েনি।
জানেন কী, এমন একটা স্ট্রাকচার রয়েছে যেটা সাড়ে আটশো বছর ধরে হেলে রয়েছে। ঝড়-ঝঞ্ঝা, ভূমিকম্প, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েও সে ভেঙে পড়েনি। যাকে দেখতে সারা দুনিয়া থেকে
প্রতিবছর লাখো পর্যটক আসেন। পিসার হেলানো মিনার। কীভাবে হেলে পড়েও এতবছর সে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা একটা বিস্ময়। তবে, চিন্তার কথা হল মিনারটি নতুন করে আরও হেলতে শুরু করেছে। আর তাতেই প্রমাদ গুনছে ইটালি।
সারা দুনিয়ার সেরা কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারদের ডাকা হচ্ছে যাতে ঐতিহাসিক এই মিনারের হেলে পড়া থামানো যায়। প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন ওজনের লিনিং টাওয়ারের ভরকেন্দ্র রয়েছে এর চারতলার সিলিংয়ে। ভরকেন্দ্র টাওয়ারের বাইরের দিকের পরিধি পর্যন্ত না যাওয়ায় সেটা হেলে গিয়েও দাঁড়িয়ে আছে। ভেঙে পড়েনি।
লিনিং টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন একঝাঁক বিশেষজ্ঞের একটা টিম। যে টিম লিড করেন পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। ১৯৯০ সালে তাঁরা দেখেন মিনারটি প্রায় সাড়ে পাঁচ ডিগ্রি হেলে পড়েছে। যে কোনও সময় সেটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। সাধারণ দর্শকদের জন্য সঙ্গে সঙ্গেই মিনারের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মিনার বাঁচাতে দ্রুততার সঙ্গে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার মঞ্জুর করে ইটালি সরকার। তারপর, গত তিন দশকে মিনারটিকে প্রায় ১৭ ইঞ্চি সোজা করা হয়।
ইঞ্জিনিয়াররা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টাওয়ারের নীচের নরম মাটি সরিয়ে সেখানে শক্ত জমি তৈরি করেন। আর হেলে পড়ার উল্টো দিকে বিশাল ওজন চাপিয়ে দেওয়া হয়। এতে টাওয়ারটি রক্ষা পায়। ২০০৮ সালে দেখা যায় সাড়ে পাঁচ ডিগ্রি থেকে কমে মিনার হেলে আছে ৪ ডিগ্রিতে। পর্যটকদের জন্য ফের খুলে দেওয়া হয় লিনিং টাওয়ার। কিন্তু, এখন আবার নতুন করে সেটি হেলতে শুরু করেছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে বছরে দশমিক শূন্য দুই ইঞ্চি করে বাঁদিকে হেলে যাচ্ছে মিনার। তার গায়ে কিছু ফাটলও ধরা পড়েছে। লিনিং টাওয়ার বাঁচাতে ফের যুদ্ধকালীন তত্পরতার সঙ্গে শুরু হয়েছে কাজ।