
নিউইয়র্ক: ১৯৯১ সালের পর ফের ২০২৬। হামের প্রাদুর্ভাবে জর্জরিত মার্কিন মুলুক। ৩৫ বছরে সর্বোচ্চ সংক্রমণ। মিজলস বা হাম ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে আমেরিকার বড় বড় শহরে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। পরিস্থিতি এমনই যে নিউ ইয়র্কের মতো শহরে ডিজাস্টার এমার্জেন্সি লাগু করতে হয়েছে। কিন্তু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন বাড়ছে হামের প্রকোপ?
গতবছর থেকেই আমেরিকাতে হামের প্রকোপ বাড়ছিল। কিন্তু এবছর আরও ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়েছে এই রোগ। পয়লা অক্টবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৪ হাজারেরও বেশি হামের কেস নথিভুক্ত হয়েছে, যা গত ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৯১ সালের পর আমেরিকাতে হাম এতটা ভয়ঙ্কর চেহারা নেয়নি কখনও। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পেনসিলভানিয়া, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, উটাহ-র মতো শহরে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল স্টেট্ ডিজাস্টার এমারজেন্সি জারি করেছেন। মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত ২ বছরে হামের জন্য ৮ জনের প্রাণ গিয়েছে। যা গত ৩৫ বছরের পরিসংখ্যানকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
হাম কী? কীভাবে ছড়ায়?
পেনসিলভানিয়াতে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। ফিলাডেলফিয়াতে হাজারেরও বেশি। সেখানে ২০০ জন হাসপাতালে, মৃত ৫। ১৯৯০ সালে শেষ বার নিউইয়র্কের মতো শহরে হাম এতটা বাড়াবাড়ি চেহারা নিয়েছিল। সেবছর ৪৫০০ মানুষ হামে আক্রান্ত হন। কিন্তু এবছর আমেরিকাতে কেন হামের বাড়াবাড়ি হল? আসলে হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, হাম প্রতিরোধে, সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করতে জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকা নেওয়া বা Herd Immunity প্রয়োজন। সম্প্রতি আমেরিকায় কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের মধ্যে এমএমআর (MMR) টিকার হার ৯২.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রত্যন্ত এলাকার কিছু নির্দিষ্ট স্কুলে এই হার আরও অনেক নিচে নেমে গেছে। একইসঙ্গে, করোনা মহামারীর পর থেকে আমেরিকার একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়া নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে। সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছড়ানো বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণেও অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়মিত শৈশবকালীন টিকা দিতে অস্বীকার করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (CDC) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে যারা হামে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রায় ৯২ শতাংশ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষই কোনও টিকা নেননি। ফলে ভাইরাস সহজেই একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের অনেক দেশেই এখন হামের বড় প্রাদুর্ভাব। টিকা না নেওয়া কোনও মার্কিন নাগরিক বিদেশ ভ্রমণ করে দেশে ফেরার সময় অজান্তেই এই ভাইরাস বহন করে নিয়ে আসছেন।
আমেরিকা ছাড়াও হামের বাড়াবাড়ি এই মুহূর্তে আরও কয়েকটি দেশে তৈরি হয়েছে। যেমন-
শিশুদের হামের টিকাকরণে ভারত গোটা বিশ্বের মধ্যে নজির তৈরি করেছে। একটি ডোজ ৯৮ শতাংশ ও দুটি ডোজ পেয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ ভারতবাসী। তবে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মতো ভারতেও হাম আক্রান্ত রয়েছে। WHO-এর তথ্য বলছে, এ দেশে ২৬ হাজার করফার্মড কেস রয়েছে হামের। ভারতের প্রত্যন্ত প্রান্তে টিকাকরণের অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোকে দায়ী করছেন চিকিতসকরা।