Operation Black Bag: সাংসদদের শৌচাগারে মলত্যাগ করে পালাচ্ছে কারা?

Russian espionage allegations: ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে, পরমাণু বোমা হামলার হুমকি দিচ্ছে। ফিনিশ পার্লামেন্টের স্পিকার অভিযোগ করছেন, ফিনল্যান্ডে অপরিচিত-অজানা দুষ্কৃতীদের হামলা বহুগুণ বেড়েছে। বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকা, তালা ভেঙে ফেলা, বাথরুম নোংরা করে রাখার ঘটনা গত এক বছরে বহুগুণ বেড়েছে। পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকারও অভিযোগ করছেন, এটা পুতিনের বহু পুরনো কায়দা।

Operation Black Bag: সাংসদদের শৌচাগারে মলত্যাগ করে পালাচ্ছে কারা?
কেন এমন করা হচ্ছে? Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Oct 12, 2026 | 6:50 PM

রাশিয়া বনাম ন্যাটো-র ঠান্ডা লড়াইয়ের শিকার ‘বেচারা’ ফিনল্যান্ড। রাশিয়া ও ফিনল্যান্ডের প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার বিতর্কিত সীমান্ত সমস্যা তো ছিলই। কিন্তু ন্যাটো-য় নাম লেখানোর পর ফিনল্যান্ড জুড়ে শুরু হয়েছে মস্কোর হাইব্রিড ওয়ার-ফেয়ার। পোশাকি নাম- অপারেশন ‘ব্ল্যাক ব্যাগ’। ক্রেমলিন থেকে রুশ গুপ্তচর-রা ঢুকছে ফিনিশ রাজধানী হেলসিঙ্কিতে। ঢুকে যে সব কাজকর্ম করছে জানলে চমক উঠবেন! ফিনিশ সাংসদদের টয়লেট পর্যন্ত ছাড়ছে না। আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে ব্যাপক হইচই।

শুরুটা হয়েছিল ভয়ঙ্কর সাইবার হামলা দিয়ে। ফিনল্যান্ডের নামী সব সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট, ব্যাঙ্কের সার্ভার, নেতাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ড– হ্যাক করার অভিযোগ উঠছিল রুশ স্পাইদের বিরুদ্ধে। কিন্তু এবার ফিনল্যান্ডের ২০ জনেরও বেশি সাংসদ, একদল আইনজীবী ও সরকারি কর্মী যে অভিযোগ করেছেন তা চমকে দেওয়ার মতো। অভিযোগ, রুশ স্পাইরা ফিনল্যান্ডের সাংসদদের বাড়িতে ঢুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছায়ার মতো। আড়ালে-আবডালে। তাদের আবছা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সামনে গেলে কাউকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটা প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি টেলিগ্রাফে। ফিনিশ সাংসদদের বাড়ির বাথরুমে ঢুকে মলত্যাগ করছে পুতিনের চরেরা। অথচ ফ্লাশ করছে না। বাথরুম নোংরা করে ফেলে রেখে চম্পট দিচ্ছে। শুনতে হাস্যকর মন হলেও ফিনিশ এমপি-রা পড়েছেন মহা ফ্যাসাদে। অন্তত ২০ জন সাংসদ, আইনজীবী, নেতা ও বিশিষ্টরা লিখিতভাবে এই অভিযোগ জানিয়েছেন। হেলসিঙ্কি পুলিশ ও ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এই বিষয়ে জোর তদন্ত শুরু করেছে। ফিনিশ পার্লামেন্টের সিনিয়র এমপি বেন জিসকোউইচের অভিযোগ, ‘বাড়ির শৌচাগারে ঢুকে মলত্যাগ করে যাচ্ছে রুশ গুপ্তচরেরা। বাথরুম নোংরা করছে, ফ্লাশ না করে চম্পট দিচ্ছে। অথচ সেই বাড়িতেই রয়েছে এমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথিতে হাত পর্যন্ত দিচ্ছে না। এটা পুতিনের কায়দা। এই কায়দা আমরা চিনি। আমাদের উপর নজরদারি চলছে, সেটা বোঝাতেই এই নোংরামি।’

ঠান্ডা যুদ্ধের সময় রুশ চরেরা এভাবেই মার্কিন গোয়েন্দা, নেতা, কূটনীতিবিদ-দের বাড়িতে ঢুকত বলে মনে করাচ্ছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এটা এক ধরনের সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার। শত্রুর উপর মানসিক চাপ বাড়ানো। বোঝানো– তোমরা আমাদের নজরে রয়েছ। এই স্পাই-রা চুরিও করে না, ডাকাতি করে না। শুধু নিজেদের উপস্থিতি টের পাইয়ে যায়। ন্যাটো-তে যোগদানের পর থেকেই ফিনল্যান্ডে আগ্রাসনের ঝাঁঝ বাড়িয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে হেলসিঙ্কিতে চোরাগোপ্তা হামলা বেড়েছে বহুগুণ। হাইব্রিড-সাইবার হামলা উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ ফিনিশ সেনা, অভিবাসন, বিদেশমন্ত্রকের ওয়েবসাইটে। এমনকী, বাল্টিক সাগরের নিচে ইন্টারনেটের কেবল লাইন কেটে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে দেশবিরোধী প্রচার চালাচ্ছে রুশ প্রভাবীরা, অভিযোগ ফিনিশ সরকারের। তবে পাল্টা প্রতিরোধও শুরু হয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে নিজেদের সীমানা সিল করেছে ফিনল্যান্ড। রুশ চরদের অনুপ্রবেশ রুখতে ২০০ কিমি লম্বা বৈদ্যুতিক তারের ফেন্সিং বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

আসলে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে, পরমাণু বোমা হামলার হুমকি দিচ্ছে। ফিনিশ পার্লামেন্টের স্পিকার অভিযোগ করছেন, ফিনল্যান্ডে অপরিচিত-অজানা দুষ্কৃতীদের হামলা বহুগুণ বেড়েছে। বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকা, তালা ভেঙে ফেলা, বাথরুম নোংরা করে রাখার ঘটনা গত এক বছরে বহুগুণ বেড়েছে। পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকারও অভিযোগ করছেন, এটা পুতিনের বহু পুরনো কায়দা। শত্রুকে বোঝানো– সর্বক্ষণ তোমরা আমাদের রেডারের নিচে আছো। ফিনিশ প্রধানমন্ত্রীও এ ধরনের হামলায় বিদেশি হাত রয়েছে বলে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছেন। যদিও ফিনিশ সিকিউরিটি অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস এখনও এই দুষ্কর্মের সঙ্গে রাশিয়ার কোনও সরাসরি যোগ খুঁজে পায়নি।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us