
কাঠমান্ডু: সাধারণ নির্বাচন মিটতেই শুরু হয়ে যায় গণনা। বৃহস্পতিবার রাতেই নেপালের ১০টি কেন্দ্রে ব্যালট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তারপর প্রাথমিক গণনাতেই দেখা যায় নজিরবিহীন ছবি। জেনজিদের (তরুণ প্রজন্ম) কাঁধে চড়ে গতি ধরে নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপি। আর নেপথ্যে কারিগর হন দলের প্রধান তথা কাঠমান্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ। ঝাপা-৫ আসনে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। ওই আসনেই এখনও পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টির অব নেপালের প্রধান কেপি শর্মা ওলি।
বিকাল সাড়ে চারটে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য় অনুযায়ী, ১৬৫টি প্রত্যক্ষ আসনের মধ্যে ১০১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলেন্দ্রর দল। অর্থাৎ নেপালে এখনও পর্যন্ত দুই-তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আরএসপি। নেপালের সবচেয়ে পুরনোর দল গগন থাপার নেপালি কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে আটটি আসনে। পাশাপাশি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ডের দল এগিয়ে রয়েছে সাতটি আসনে।
বলে রাখা প্রয়োজন, নেপালের জেনজিদের একটা বড় অংশের পছন্দ ছিলেন প্রাক্তন গায়ক তথা রাজধানীর অধুনা মেয়র বলেন্দ্র শাহ। গত সেপ্টেম্বর মাসে জেনজি আন্দোলনে অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। আর সেই আত্মবিশ্বাসকে সামনে রেখেই বরাবর ঝাপা-৫ কেন্দ্রে জিতে আসা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে ওই কেন্দ্র থেকেই দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বলেন্দ্র। কিন্তু এখনও পর্যন্ত যা ট্রেন্ড, তাতে বলেন্দ্র যে ওলিকে গোল দিতে পারেন সেই সম্ভবনাই বেশি বলে মনে করছেন একাংশ।
কিন্তু জোড়া ব্য়ালটে ভোট হওয়ার ফলে বলেন্দ্রর রাজনৈতিক জীবনে এখনও চিন্তার অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। ২০১৫ সালের নতুন সংবিধান অনুযায়ী নেপালে একটি মিশ্র নির্বাচনী ব্যবস্থা রয়েছে। যার দু’টি পদ্ধতিতে সেদেশে গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে থাকে। একটি প্রত্যক্ষ নির্বাচন। অন্যটি পরোক্ষ নির্বাচন। প্রত্যক্ষ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বলেন্দ্রর দল এগিয়ে থাকলেও, পরোক্ষ নির্বাচনের ফলাফল যে ফেলে দেওয়ার মতো তা নয়। সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময়ই প্রধানমন্ত্রীত্বের পরোক্ষ নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।