
জার্মানির স্টুটগার্টে বসেছে নিউজ৯ গ্লোবাল সামিট। সেখানে অতিথি হিসাবে ভাষণ দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। তিনি জার্মানিকে প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। বলেন যে জার্মানি গাড়ি তৈরি থেকে শুরু করে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে যেমন বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে, তেমনই মহারাষ্ট্র ভারতের শিল্প ইঞ্জিন। এর শক্তিশালী উৎপাদন ভিত্তি, একটি সমৃদ্ধ পরিষেবা এবং দ্রুত বর্ধনশীল স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম রয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ভিডিয়ো কনফারেন্সে বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ভারত-জার্মানির সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে। বাণিজ্যের বাইরে গিয়ে ভবিষ্যতের শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি সত্যিকারের সহযোগিতার দিকে এগিয়ে গিয়েছে দুই দেশ।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতে জার্মান বিনিয়োগের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পুণে। প্রতি পাঁচটি জার্মান কোম্পানির মধ্যে একটি এ দেশে অবস্থিত। এটি আমাদের সমন্বয়ের স্পষ্ট প্রতিফলন”।
ভারতের অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা টেনে ফড়ণবীস বলেন, “ভারতের জিডিপিতে মহারাষ্ট্রের অবদান প্রায় ১৪ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন এবং বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি শীর্ষ রাজ্য। শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই আমরা ২০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এনেছি, যা দেশে আসা মোট বিনিয়োগের ৩১ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষ গন্তব্যস্থল হয়ে উঠেছি আমরা।”
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে আমাদের বিনিয়োগকারী-বান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন মহা-পরওয়ানা সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স সিস্টেম, বিনিয়োগকে মসৃণ এবং স্বচ্ছ করে তোলে। মার্সিডিজ-বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, ভক্সওয়াগেন এবং সিমেন্সের মতো জার্মান কোম্পানিগুলি মহারাষ্ট্রকে তাদের ভারতের ঠিকানা করে নিয়েছে, আরও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করেছে এবং উচ্চমানের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে।
মহারাষ্ট্রে বিনিয়োগের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, মুম্বইয়ের আর্থিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য আমাদের বিশ্বমানের শিল্প করিডোর, বন্দর, ডিজিটাল পরিকাঠামো রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন যে মহারাষ্ট্র উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যে জার্মানির অংশীদার হবে। স্টুটগার্ট এবং মুম্বইয়ের মধ্যে অংশীদারিত্ব একটি সিস্টার-সিটি চুক্তি হিসেবে শুরু হয়েছিল। এই অংশীদারিত্ব দ্রুত ভারত-জার্মানি করিডোরের সবচেয়ে উৎপাদনশীল অংশীদারিত্বগুলির মধ্যে একটিতে পরিণত হয়েছে।