
নোবেল কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, সাহসী ও উদ্ভাবনী সাহিত্যকর্মের জন্য অ্যান কারসনকে এবারের সাহিত্যে নোবেল প্রাইজে সম্মানিত করা হচ্ছে। ধ্রুপদী সাহিত্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন আঙ্গিক তৈরি করেছেন তিনি।
কানাডার এই কবি ও প্রাবন্ধিকের লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কবিতা, গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদের অভিনব মিশ্রণ। তাঁর সাহিত্যকর্মকে কোনও একটি নির্দিষ্ট ধারায় বেঁধে রাখা কঠিন। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণের প্রভাব তাঁর লেখায় বিশেষভাবে লক্ষ করা যায়।
কানাডার কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কারসন মূলত প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের অনুবাদের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তবে শুধু অনুবাদ নয়, কবিতা, সাহিত্য সমালোচনা, অপেরার জন্য রচিত নাট্যপাঠেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত কাব্য-উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ সাহিত্যজগতে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে। এই রচনায় প্রাচীন গ্রিক পুরাণের চরিত্র ও কাহিনিকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। ২০১৯ সালে প্রকাশিত তাঁর নোরমা জেনে বেকার অব ট্রয় (Norma Jeane Baker of Troy) সাহিত্যকর্মটিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই রচনায় গ্রিক নাট্যকার ইউরিপিদিসের ‘হেলেন’ নাটকের ট্রয়ের হেলেন এবং হলিউড অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর কাহিনিকে একসূত্রে গেঁথেছেন কারসন। প্রাচীন পুরাণ ও আধুনিক সংস্কৃতির এই অভিনব মেলবন্ধন তাঁর সাহিত্যশৈলীর অন্যতম পরিচয়।
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান হলেও বিজয়ী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রুশ সাহিত্যিক লিও টলস্টয়, ব্রিটিশ লেখিকা ভার্জিনিয়া উলফ এবং আর্জেন্টিনার সাহিত্যিক হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো কিংবদন্তিরা এই পুরস্কার পাননি। তা নিয়ে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে নোবেল অ্যাকাডেমিকে।
এমনকী, মার্কিন সাহিত্যিকদের উপেক্ষা করার অভিযোগও উঠেছে। যদিও ২০১৬ সালে মার্কিন গায়ক ও গীতিকার বব ডিলানকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, ১৯৮২ সালে কলম্বিয়ার সাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এবং ২০০৭ সালে ডরিস লেসিংয়ের মতো জনপ্রিয় সাহিত্যিকরাও এই সম্মান পেয়েছেন। নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের সমর্থকদের মতে, শুধু জনপ্রিয় সাহিত্যিকদের স্বীকৃতি দেওয়াই নয়, বিশ্বের অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত সাহিত্যধারাকে পাঠকদের সামনে তুলে ধরাও এই পুরস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
২০২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির সাহিত্যিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই (Laszlo Krasznahorkai)। মার্কিন সাহিত্য সমালোচক সুসান সনট্যাগ তাঁকে ‘মাস্টার অব দ্য অ্যাপোক্যালিপস’ বলে অভিহিত করেছিলেন।