
নয়াদিল্লি: নেপালের সদ্য নির্বাচিত বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হিমালয়ের কোলের স্থিতু ওই ছোট্ট দেশের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে তাঁর নাম সবার আগে। এককালে ছিলেন র্যাপার, পরবর্তীতে হয়েছেন কাঠমান্ডুর মেয়র। এবার বলেন্দ্র এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে। নেপালের পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে তোলপাড় করে ৩৫ বছর বয়সি বলেন্দ্রর দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ক্ষমতা দখল করেছে নেপালের। তাই এই আবহেই আর দেরি না করে সোমবার বলেন্দ্র এবং আরএসপি-র চেয়ারম্যান রবি লামেছানের সঙ্গে ফোনের কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির রবি লামেছানে এবং দলের প্রধান বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে টেলিফোনে উষ্ণ কথোপকথন হয়েছে। নেপালের নির্বাচনে তাঁদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছি। নেপালের আসন্ন সরকারকেও আমাদের তরফ থেকে অনেক শুভেচ্ছা। ভারত পারস্পরিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণের জন্য় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি আত্মবিশ্বাসী, আমাদের যৌথ উদ্যোগে আগামী দিনে ভারত এবং নেপালের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।”
ইতিমধ্যে নেপালে দুই-তৃতীয়াংশ আসনের সঙ্গে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলেন্দ্র শাহের দল। প্রত্যক্ষ নির্বাচনে ১৬৫টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনেই জয়ী তাঁদের প্রার্থী। এমনকি, বলেন্দ্র খোদ হারিয়েছেন নেপালের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে। এই নির্বাচনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ওই কমিউনিস্ট নেতার বরাবরে ঘাঁটি, ঝাপা-৫ কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছিলেন বলেন্দ্র। তারপরেই ফলাফলে বিরাট টক্কর। প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে ছিলেন বলেন্দ্র। যখন ভোট গণনা সম্পন্ন হল, তখনও বলেন্দ্রই ‘একমেবদ্বিতীয়ম’। তিনিই যে নেপালের দায়িত্ব নিতে চলেছেন সেটাও এই পর্বে কার্যত স্পষ্ট হয়ে যায়।
Had warm telephone conversations with Mr. Rabi Lamichhane, Chairman of the Rastriya Swatantra Party (RSP) and Mr. Balendra Shah, Senior Leader of the RSP.
Congratulated both leaders on their electoral victories and RSP’s resounding success in the Nepal elections. Conveyed my…
— Narendra Modi (@narendramodi) March 9, 2026
এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির নজর রয়েছে কাঠমান্ডুতে চলা ক্ষমতা বিবর্তন প্রক্রিয়ায়। পুরনো সংস্কৃতি চূর্ণ করে, সামনের সারিতে তরুণরা। কিন্তু কূটনৈতিক শিবিরের মতে, বলেন্দ্রর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, সেই নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। এদিকে ভারতের উন্মুক্ত সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে কাঠমান্ডুতে স্থিতিশীল সরগার প্রয়োজন। কিন্তু বলেন্দ্রর কি জায়গা তৈরি করতে পারবে? কারণ তাঁকে নিয়ে নয়াদিল্লির স্মৃতি যে বিশেষ সুখকর নয়। ২০২৩ সালে বলেন্দ্র কাঠমান্ডুর মেয়র-দফতরে একটি বৃহত্তর নেপালের মানচিত্র দেখিয়েছিলেন। সেখানে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিকে নেপালের অংশ হিসাবে দেখানো হয়েছিল। এমনকি, ২০২৫ সালে নভেম্বরে, কাঠমান্ডুর মেয়র হিসাবে বলেন্দ্র নিজের সমাজমাধ্যমে তিনটি বিদেশি শক্তি কড়া বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সেগুলি হল — ভারত, আমেরিকা এবং চিন।