
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় নোবেলজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সদ্যনির্মিত একটি ম্যুরাল বিকৃত করার চেষ্টার অভিযোগ। এই ঘটনায় পুলিশ রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। সেগুনবাগিচা এলাকায় অবস্থিত ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি’র বাইরে এই ঘটনাটি ঘটে।
‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক তরুণী কালো কালি দিয়ে ওই ম্যুরালটি বিকৃত করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত চারজনের নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং এই ঘটনার পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং এর পেছনে অন্য কারও হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনা করেছেন। ঢাকার সেগুনবাগিচায় চলতি মাসেই ফুটপাথ দখলমুক্ত করেন স্থানীয় পুর কর্তৃপক্ষ। পরে ওই ফুটপাথ লাগোয়া দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যজিৎ রায়-সহ বিভিন্ন মনীষীর প্রতিকৃতি আঁকা হয়। কিন্তু তাতেই কালি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাবলিক প্লেসে থাকা সাংস্কৃতিক প্রতীক এবং শিল্পকর্মের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তোলে। এর আগেও বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি এবং তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল।
গত বছর তাঁর পৈতৃক গ্রামও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছিল। বর্তমান ঘটনায় চারজন গ্রেফতার হলেও তদন্তের অগ্রগতি ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্যের জন্য পুলিশের পরবর্তী রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টমহল।
উল্লেখ্য, ধৃতদের মধ্যে একজন রয়েছে হাসিনা-বিরোধী যুবনেতা। অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কিত কাজকর্মে বাংলাদেশের এই যুবনেতার নাম জড়ায়। গত মাসে মাগুরায় বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সাংসদ শাকিব আল হাসানের বাড়ির সামনে মূত্রত্যাগও করেছিলেন তিনি। গত দু’বছরে বিভিন্ন সময়ে হাসিনা-বিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।