
মক্কায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছে দুই বাংলাদেশি। এই সাজা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বাংলাদেশে। কী অপরাধে ওই দুই বাংলাদেশিকে সাজা দেওয়া হয়েছে, জানেন? তারা পবিত্র মক্কায় ধর্মীয় স্থানের ভিতরে অসদাচরণ করেছিলেন। সেই কারণেই তাদের প্রথমে কারাগারে বন্দি করা হয় এবং পরে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরই সতর্ক অনেকে। সৌদি আরবের কড়া আইনে কী কী বলা রয়েছে? কোনও নিয়ম বা আইন ভাঙলে কী শাস্তি হয়?
সৌদি আরবে ইসলামিক শরিয়ত বা শরিয়া আইন ও বিধান অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করা হয়। পর্যটক, প্রবাসী বা যেকোনও নাগরিকের জন্য সৌদি আরবের নিয়মকানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
সৌদি আরবে কাজ করতে যাওয়া কোনও ভিন দেশের কর্মী, পর্যটক কিংবা ওমরাহ করতে যাওয়া মানুষের জন্য সে দেশের আইন ও নিয়মকানুন জানা জরুরি। মদ বা মাদক বহন থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে অশালীন আচরণ, অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট—বিভিন্ন অপরাধে জরিমানা, কারাদণ্ড, এমনকী বিদেশিদের ক্ষেত্রে দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তিও হতে পারে। মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও রয়েছে। তবে সব অপরাধের শাস্তি এক নয়। অপরাধের ধরন, পরিস্থিতি, আইন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হয়।
অন্য কোনও ধর্মের প্রকাশ্য প্রচার: সৌদি আরবে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের উপাসনালয় নির্মাণ, ধর্মপ্রচার বা প্রকাশ্য ধর্মীয় আচার পালন নিষিদ্ধ।
পবিত্র স্থানে অমুসলিমদের প্রবেশ: মক্কা শরীফের সম্পূর্ণ এলাকা এবং মদিনা শরীফের নির্দিষ্ট সীমানায় অ-মুসলিমদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
অসদাচরণ বা অসম্মান প্রদর্শন: পবিত্র স্থান বা সাধারণ স্থানে ইসলামী নীতি-নৈতিকতা পরিপন্থী কোনও আচরণ করা যায় না। ধরা পড়লে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত সাজা হতে পারে।
সৌদি আরবে মদ আমদানি, নিজের কাছে রাখা, পান করা, তৈরি করা বা বিক্রি করা নিষিদ্ধ। এছাড়া মদ্যপ অবস্থায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা বা বিশৃঙ্খল আচরণ করলেও আইনি ব্যবস্থা হতে পারে। শাস্তি হিসাবে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং বিদেশিদের ক্ষেত্রে বহিষ্কার পর্যন্ত করা হতে পারে।
গাঁজা, হ্যাশ, কোকেন এবং অন্যান্য বেআইনি মাদক রাখা, সেবন, বিক্রি বা পাচার গুরুতর অপরাধ সৌদি আরবে।
অল্প পরিমাণ মাদক রাখার ক্ষেত্রে শাস্তি হিসাবে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা হতে পারে। মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
প্রকাশ্যে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ, অশালীন অঙ্গভঙ্গি, গালিগালাজ করা বা অন্যকে ভয় দেখানো সৌদি আরবে নিষিদ্ধ। জনসমক্ষে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা প্রদর্শনও সমস্যার কারণ হতে পারে। আচরণের ধরন অনুযায়ী জরিমানা, কারাদণ্ড বা বহিষ্কার করা হতে পারে।
সৌদি আরব রক্ষণশীল দেশ। সেখানে জনসমক্ষে শালীন পোশাক পরা জরুরি। খুব আঁটসাঁট পোশাক কিংবা অশ্লীল ছবি বা স্লোগানযুক্ত পোশাক এড়িয়ে চলা উচিত।
মহিলা পর্যটকদের সব ক্ষেত্রে আবায়া বা মাথা ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক নয়; তবে স্থানীয় পোশাকবিধি মানতে হয়।
শাস্তি: পোশাকবিধি লঙ্ঘনে প্রথমবার ১০০ রিয়াল এবং একই অপরাধ পুনরায় করলে ২০০ রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে বলে সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে।
সৌদি আরবে সরকারি ভবন, সামরিক ঘাঁটি, প্রাসাদ, কূটনৈতিক স্থাপনা বা নিরাপত্তা বাহিনীর ছবি তোলা নিষিদ্ধ হতে পারে।
এছাড়া সৌদি আরবে অন্যের ছবি বা ভিডিয়ো তোলার আগে তাঁর অনুমতি নেওয়া উচিত। বিনা অনুমতিতে ছবি তোলা অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়।
ধরা পড়লে শাস্তি হিসাবে জরিমানা, আটক বা কারাদণ্ড হতে পারে। প্রকাশ্য স্থানে অনুমতি ছাড়া ছবি তোলার নির্দিষ্ট কিছু ঘটনায় ১,০০০ রিয়াল প্রথমবার এবং পুনরাবৃত্তিতে ২,০০০ রিয়াল জরিমানা করা হয়।
সোশ্যাল মিডিয়া নিয়েও প্রচুর কড়াকড়ি রয়েছে সৌদি আরবে। রাজপরিবার, সরকার, ধর্ম বা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এমন মন্তব্য করা উচিত নয়, যা কর্তৃপক্ষ জনশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করবে। এমনকী, পুরনো পোস্ট বা দেশের বাইরে থেকে করা পোস্টের জন্যও তদন্ত হতে পারে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দীর্ঘ কারাদণ্ড সহ অন্যান্য শাস্তি হতে পারে।
সৌদি আইনে বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ক ও পরকীয়া অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। শাস্তি হিসাবে পরিস্থিতি অনুযায়ী কারাদণ্ড, এমনকী বিদেশিদের বহিষ্কার করা হতে পারে। তবে পর্যটকদের ক্ষেত্রে অবিবাহিত যুগল একই হোটেল রুমে থাকতে পারেন—এমন বিশেষ ব্যবস্থাও রয়েছে।
সৌদি আরবে রমজান মাসে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে খাওয়া, পান করা, ধূমপান বা চুইংগাম চিবানো বারণ। এই অপরাধে আটক, জরিমানা বা বিদেশিদের বহিষ্কার করা হতে পারে।
সৌদি আরবে প্রবেশের সময় বিভিন্ন জিনিস বহনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এগুলি হল
শাস্তি: জিনিস বাজেয়াপ্ত করা, আটক, জরিমানা বা অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী কারাদণ্ড হতে পারে।
মাদক পাচার, হত্যা, ধর্ষণ, গুরুতর অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। কিছু অপরাধে মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।