Bangla NewsWorld Sri Lanka Crisis: IMF World Bank Considering to Help Sri Lanka with Financial Aid
Sri Lanka Crisis: চাল-ডাল কেনার ক্ষমতাও নেই আর, বিশ্ব ব্যাঙ্ক-আইএমএফ কি বাঁচাবে শ্রীলঙ্কাকে?
Sri Lanka Crisis: শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষ জানান, চিনের প্রিমিয়ার লি কেকিয়াং-র সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সে দেশের সরকারও শ্রীলঙ্কাকে এই কঠিন সময়ে সাহায্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কলম্বো: আঁধারে ডুবেছে রাবণের দেশ। চরম আর্থিক সঙ্কটে কার্যত ‘দেউলিয়া’ হয়ে গিয়েছে শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। দেশে নেই জ্বালানি তেল, খাদ্যশস্য। বিদ্যুতেরও জোগান না থাকায় দিনের অর্ধেকেরও বেশি অন্ধকারে ডুবে থাকছে গোটা দেশ। বিগত কয়েক বছরে বিদেশ থেকে যে বিপুল ঋণ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা, তা এখন মেটানো সম্ভব হবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে আন্তর্জাতিক মনিটারি ফান্ড (International Monetary Fund)। সূত্রের খবর, বিশ্ব ব্যাঙ্ক (World Bank) ও আন্তর্জাতিক মনিটারি ফান্ডের তরফে আর্থিক সাহায্যের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারত, চিন সহ একাধিক দেশের তরফেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবারই শ্রীলঙ্কার অর্থমন্ত্রী আলি সাবরি জানান যে, ভারত ও বিশ্ব ব্যাঙ্ক ২০ কোটি ডলার অর্থ সাহায্যের চিন্তাভাবনা করছে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক আলাদাভাবে ৩০ থেকে ৬০ কোটি ডলার অর্থ সাহায্যের পরিকল্পনা করছে। আগামী চার মাসের মধ্যে এই অর্থ সাহায্য করা হবে যাতে শ্রীলঙ্কা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও ওষুধ কিনতে পারে। আন্তর্জাতিক মনিটারি ফান্ডের সঙ্গে আর্থিক সাহায্যের প্যাকেজ নিয়ে কথা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী সাবরি। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে এই অনুদান পেতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলেই জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষ জানান, চিনের প্রিমিয়ার লি কেকিয়াং-র সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সে দেশের সরকারও শ্রীলঙ্কাকে এই কঠিন সময়ে সাহায্যের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাজাপক্ষ টুইট করে বলেন, “চিনা প্রিমিয়ার লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। আমি শ্রীলঙ্কার তরফে চিনকে ধন্য়বাদ জানাতে চাই তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ও কঠিন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য।”
শ্রীলঙ্কার ঘাড়ে বর্তমানে ২৫০ কোটি ডলারের ঋণের বোঝা রয়েছে। এরমধ্যে ৭০ কোটি ডলার চলতি বছরেই দিতে হবে। তবে করোনাকালে বিগত দুই বছরে পর্যটন শিল্প থমকে দাঁড়ানোয়, দেশের অর্থনীতিও বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় আগত পর্যটকদের একটি বড় অংশই রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আসত। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায়, পর্যটকরাও আসা বন্ধ করে দিয়েছে। হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারও ফুরিয়ে যাওয়ায় ঋণ মেটানো তো দূরের কথা, শ্রীলঙ্কা কোনও পণ্য আমদানিই করতে পারছে না।