
তেহরান: অবশেষে যুদ্ধবিরতি। ইরান-আমেরিকা (Iran-USA Ceasefire) নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না করলেও, আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। আর সংঘর্ষবিরতি হতেই আবার খুলতে চলেছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। আবার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী দিয়ে চলাচল করবে জাহাজ। তবে হরমুজ খুললেও ভারত সহ একাধিক দেশেই তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কেন জানেন?
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। শোনা যাচ্ছে, তেহরান অবিলম্বেই এই ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রণালী খুলে দেবে, তবে এবার হরমুজ দিয়ে যাতায়াতের জন্য জন্য ট্যাক্স লাগবে। এতদিন হরমুজ দিয়ে জাহাজের চলাচলে কোনও টোল (Toll) বা কর লাগত না। সূত্রের খবর, এবার ইরান ও ওমান-দুই দেশই কর নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
সংবাদসংস্থা এপি সূত্রে খবর, যুদ্ধে ইরানে যে প্রতিরক্ষা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক, জনজীবনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে বিপুল খরচ। সেই খরচ তুলতেই এবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য টোল নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান। এতে ইরানকে সমর্থন করছে পড়শি দেশ ওমান-ও।
রয়টার্স সূত্রে খবর, জাহাজের আয়তন কত, কী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ওই জাহাজে, তার উপরে নির্ভর করেই ইরান ট্রানজিট ফি নির্ধারণ করবে। ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজ়েম ঘারিবাবাদি গত সপ্তাহেই বলেছিলেন যে তেহরান ওমানের সঙ্গে কথা বলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের প্রোটোকল তৈরি করছে।
ইরান হরমুজ দিয়ে যাতায়াতে কর নিতে চাইলেও, মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলি, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতার এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে মুক্ত যাতায়াত হোক। কোনও ধরনের আর্থিক বোঝা চাপানো যাবে না।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের সমুদ্র আইন (United Nations Convention on the Law of the Sea) অনুযায়ী, কোনও প্রণালী লাগোয়া দেশ ওই পথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনও টাকা দাবি করতে পারে না। তবে পাইলট, টেনে নিয়ে যাওয়া বা বন্দর পরিষেবার জন্য ফি নিতে পারে, সেটাও সীমিত। কোনও নির্দিষ্ট দেশের জাহাজের উপরে অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-আমেরিকা সংঘাত ৪০ দিন পার করেছে। তবে আজ, বুধবার দুই দেশ দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। ১০ এপ্রিল ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তি আলোচনা হতে পারে।