
ইজরায়েল: ইজরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আরব রাজনৈতিক দলগুলি। নির্বাচনে তাদের আসনসংখ্যা বাড়লে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ পাওয়া খবর বলছে ইজরায়েলের নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের তুলনায় এগিয়ে থাকলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনও পাননি তিনি। ফলে ইজরায়েলে পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইজরায়েলের সংসদ নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সেখানে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। প্রাথমিক গণনার হিসাব অনুযায়ী, ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা হওয়ার পর নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-ডানপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ইহুদি শরিক দলগুলি মিলিয়ে পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের ‘ইয়াশার পার্টি’ এবং তাঁর জোটের আরও তিনটি ইহুদি বিরোধী দল মিলিয়ে ৪৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই শিবিরের কেউই যদিও এখনও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দলগুলি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা ইজরায়েলের নির্বাচনী রাজনীতিতে নজিরবিহীন। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও, ইহুদি দলগুলির মধ্যে মাত্র একটি বাদে বাকিরা আরব দলগুলির সঙ্গে জোটে যেতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।
এখনও প্রায় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার অনুপস্থিত ভোট গণনা বাকি রয়েছে। এই ভোটগুলির মধ্যে সেনাকর্মী, কূটনীতিক এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ভোটও রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হতে আরও এক থেকে দু’দিন সময় লাগতে পারে।
চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর যাঁর সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে হবে, তাঁকেই সরকার গড়ার দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।