
ওয়াশিংটন: ভারতের জন্য সুখবর। আবারও রাশিয়া তেল (Russian Oil) কিনতে পারবে নয়া দিল্লি। পশ্চিম এশিয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের (West Asia Fuel Crisis) মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত আমেরিকার। আবারও ৩০ দিনের জন্য তেল কেনায় ছাড় দিয়েছে ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন। শুধু ভারত নয়, রুশ তেল কেনায় একাধিক দেশকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল আগেই । শনিবার সেই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারপরই রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে আরও এক মাস মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সম্প্রতি, এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মার্কিন রাজস্ব দপ্তরের সচিব স্কট বেসেন্ট। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন তিনি। মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে জানিয়ে পোস্টে লিখেছেন, “সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির সুরাহা করার জন্য রুশ তেল কেনার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এই বর্ধিত সময়সীমা বড় সুরাহা দেবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট লাইসেন্স প্রদানের জন্য আমরা এই দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করব। এই লাইসেন্সটি অপরিশোধিত তেলের বাজারকে চাঙ্গা করতে এবং জ্বালানি সংকটে থাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে তেল পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।”
সংকট পরিস্থিতিতে পাশে থাকার বার্তা দিয়ে লেখেন, “আমরা ওই সমস্ত দেশগুলির পাশে রয়েছি। জ্বালানি সংকটের ফলে সেই দেশগুলিতে তেল সরবরাহের কোনও অসুবিধা হবে না। শুধু তা-ই নয়, অপরিশোধিত তেলের বাজারকেও স্থিতিশীল করবে।” তবে, স্কট একটা বিষয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেলই শুধুমাত্র কিনতে পারে বিভিন্ন দেশ। যদিও, কোন কোন দেশগুলি ছাড় পাচ্ছে তা এখনও জানানো হয়নি ট্রাম্পের প্রশাসনের থেকে। তবে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, এতদিন যে দেশগুলি তেল কেনায় ছাড়পত্র পেয়েছে, সেই দেশগুলিই আবার রুশ তেল কিনতে পারবে। সেই তালিকায় একেবারে প্রথম দিকেই রয়েছে ভারত।
যদিও, ভারতের তরফে কয়েকদিন আগে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল, রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার যা-ই সিদ্ধান্ত হোক না কেন, তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখবে। কারণ ভারতের কাছে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলোই অগ্রাধিকার পাবে সবসময়।
দিন কয়েক আগে জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রাইভেট গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শও দেন। তিনি নিজে তাঁর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা কমিয়েছেন। বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রীও সেই একই পথে হেঁটেছেন। বাড়িতে বসে কাজ অর্থাৎ ওয়ার্ক ফ্রম হোমের উপরও জোর দেয় মোদী সরকার। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মতো একাধিক নির্দেশও মেনে চলছে বেশ কয়েকটি রাজ্য।