
তেহরান: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে নয়া মোড়। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলতে চাইছে না ইরান (Iran)। এবার তার পাল্টা জবাবে ইউএস সেন্ট্রাল কম্যান্ড (US Central Command) আটকে দিল ইরানের বন্দরে প্রবেশ ও বেরনোর পথ। ১৩ এপ্রিল, সোমবার সকাল ১০ টা থেকে ইরানের বন্দরে ঢোকা-বেরনো আটকাতে শুরু করল আমেরিকা।
আমেরিকার সেন্ট্রাল কম্যান্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দর ও উপকূলবর্তী এলাকায় আসা ও বেরনো সমস্ত দেশের জাহাজই আটকানো হবে। অর্থাৎ ইরান, ওমান উপকূল ও মধ্য প্রাচ্য উপকূল থেকে যাতায়াত করা সমস্ত জাহাজই আটকাবে আমেরিকা।
তবে ইরান ছাড়া অন্য কোনও দেশ থেকে আসা জাহাজ, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাবে, সেই জাহাজের পথ আটকাবে না আমেরিকা। ওমান উপকূল ও হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলেই মার্কিন নৌসেনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রবিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে শীঘ্রই হরমুজ প্রণালীর মধ্যে দিয়ে যাওয়া জাহাজের চলাচল আটকাবে আমেরিকা।
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে ভারতের উপরে চাপ বাড়তে পারে অনেকটাই, কারণ দেশে তেল ও জ্বালানির চাহিদার ৮০ শতাংশই আমদানি করা হয়। এক্ষেত্রে মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলির উপরে অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। সেখানে ইরানের বন্দরের পথ বা ওমানের পথ আটকালে, ভারতে তেল ও জ্বালানির দাম অনেকটাই বাড়তে পারে।
সূত্রের খবর, বেশ কিছু জাহাজ চিনা মুদ্রা ইউয়ান দিয়ে টোল দিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে মার্কিন ডলার ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যাকে পেট্রোডলার বলা হয়। ইউয়ানের ব্যবহার এই আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চিন ও ইরানের এই পদক্ষেপ মূলত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা স্যাংশন এড়িয়ে চলার একটি উপায়। এদিকে, ওয়াশিংটনও চিন এবং ইরানের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিয়েছে। আমেরিকা তাদের ডলারের একাধিপত্য ধরে রাখতে চায়, অন্যদিকে চিন ও ইরান বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার করে সেই আধিপত্য এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
অন্যদিকে, আমেরিকার সমস্ত দেশের জাহাজ চলাচল সিদ্ধান্তকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করে ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাকের কোয়ালিবাফ হুমকি দেন যে আমেরিকা জাহাজ চলাচল আটকালে, মার্কিন গ্রাহকদের জন্য জ্বালানির দাম ব্যাপক বাড়বে।