Vijay Diwas 2024: পাকিস্তানকে বোকা বানাতে বিরাট কৌশল ভারতের, ফিরে দেখা সেই বিজয় দিবস

Vijay Diwas 2024 : তেসরা ডিসেম্বর পাক বায়ুসেনাকে বোকা বানিয়েছিল ভারত। পাকিস্তান যে ভারতের এয়ারবেসগুলো টার্গেট করবে, ভারত সেটা আগে থেকেই জানত। এবং তাই অনেক আগে সেরা যুদ্ধবিমান ও হান্টার জেটগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বায়ুসেনাঘাঁটিতে রাখা ছিল কিছু ডামি আর অচল যুদ্ধবিমান। এমনকি কোন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে কীভাবে হামলা হবে, সেই খবরও ছিল।

Vijay Diwas 2024: পাকিস্তানকে বোকা বানাতে বিরাট কৌশল ভারতের, ফিরে দেখা সেই বিজয় দিবস

|

Dec 17, 2024 | 6:47 PM

ঢাকা: সন্ত্রাস-মৌলবাদ, হাসিনার সরকারের পতনের মধ্যে দিয়েই উঠে এল এক অন্য বাংলাদেশ। প্রতি মুহূর্তে উঠে আসছে সেদেশের সংখ্যালঘুদের উপর অকথ্য অত্যাচারের খবর। আর তার মাঝেই আরও একটা বিজয় দিবস। ১৬ই ডিসেম্বর, গতকাল ৫৩ তম বিজয় দিবস উদযাপন করল পড়শি দেশ।

ফিরে দেখা সেই দিন

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল পাক সেনা। ১৩ দিনের যুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক হার। অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না, জানেন। পাক সেনা ভারতকে আক্রমণের যে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল, তাতে খুব একটা খুঁত ছিল না। শক্তির নিরিখেও ইয়াহিয়া খানের সেনারা খুব একটা পিছিয়ে ছিল না।

সম্প্রতি ভারতীয় সেনার বেশ কিছু সিক্রেট ফাইল ডি-ক্লাসিফাইড হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন আর্মি ডিভিশনের পাঠানো কিছু রিপোর্টও রয়েছে। তেমন একটি রিপোর্টেই রয়েছে অনেক প্রশ্নের উত্তর। ১৯৭১‍ সালের তেসরা ডিসেম্বর ইন্ডিয়ান আর্মির একাধিক এয়াববেসে হামলা চালায় পাক এয়ারফোর্স। পাঠানকোট, শ্রীনগর, অমৃতসর, আগরা, হিন্ডন – বায়ুসেনার বড় ঘাঁটিগুলিকেই টার্গেট করেছিল পাকিস্তান। অপারেশন চেঙ্গিস খান। এবং ওইদিন তাঁদের সামনে কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি ভারতীয় বায়ুসেনা। যেভাবে আকাশপথে আক্রমণ হয়েছিল, তাতে ভারতের ঘাঁটিগুলির কার্যত অকেজো হয়ে পড়ার কথা। কিন্তু আদতেই সেটা হয়নি। উল্টে যেটা হয়তো পাকিস্তান দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি, পরদিন ওই বিমানঘাঁটিগুলো থেকেই উড়বে ভারতের হান্টার জেট। উড়বে এবং করাচিতে পাকিস্তানের তেলের ঘাঁটিতে বোমা ফেলে আসবে। পাকিস্তানের সেনা ও বায়ুসেনার তেলের সরবরাহ ভেঙে পড়বে।

এই অসম্ভব ব্যাপারটা কীভাবে হল?

ডি-ক্লাসিফায়েড ডকুমেন্ট থেকে স্পষ্ট, তেসরা ডিসেম্বর পাক বায়ুসেনাকে বোকা বানিয়েছিল ভারত। পাকিস্তান যে ভারতের এয়ারবেসগুলো টার্গেট করবে, ভারত সেটা আগে থেকেই জানত। এবং তাই অনেক আগে সেরা যুদ্ধবিমান ও হান্টার জেটগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বায়ুসেনাঘাঁটিতে রাখা ছিল কিছু ডামি আর অচল যুদ্ধবিমান। এমনকি কোন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে কীভাবে হামলা হবে, সেই খবরও ছিল। ভারতের তত্‍কালিন গোয়েন্দা কর্তা আর এন কাও তখন দিল্লিতে। আর কাওয়ের ডেপুটি শঙ্করণ নায়ার ঢাকায় বসে গোয়েন্দা তথ্য জোগাড়ে ব্যস্ত। দুই গোয়েন্দা কর্তাই জানতেন, পাক সেনায় ভারতীয় চরেরা সঠিক সময়ে সঠিক সময়ে সঠিক খবরটা ঠিকই পৌঁছে দেবে। সেই খবরটা ঠিক সময়ে পৌঁছে্ও গিয়েছিল। আর তাই তেসরা ডিসেম্বরের পর থেকে একবারও ভারতকে বেকায়দায় ফেলতে পারেনি পাকিস্তান।

এর কয়েকদিন পর ১১ ডিসেম্বর অপারেশন টাঙ্গাইল ড্রপ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে কোনও দেশের বায়ুসেনার সবচেয়ে বড় অপারেশন। পাকিস্তানি সেনার অন্দরের টপ-সিক্রেট তথ্য যাঁরা ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, তাঁরা কারা? RAW-এর প্রাণপুরুষ আর এন কাওয়ের লেখা তিনটি আলাদা ডকুমেন্টে হয়তো তাঁদের নাম ও ভূমিকার কথা জানা যাবে। কাওয়ের উইল অনুযায়ী, ২০২৫-র এপ্রিলের সময় ওই তিন ডকুমেন্ট ওপেন করার কথা। যুদ্ধজয়ের দিন অর্থাত্‍ ১৬ ডিসেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানে ঢুকতে তৈরি ছিল ভারতীয় সেনা। কিন্তু ,সেটা বাস্তবে আদৌ সম্ভব হয়নি।

Follow Us