
জেনেভা: বিশ্ব স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা ঘোষণা। ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus) সংক্রমণকে গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি (Global Health Emergency) ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) । কী এই ইবোলা সংক্রমণ? রোগীদেরই বা কী হয় এই সংক্রমণে?
বর্তমানে কঙ্গো ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়েছে ইবোলা সংক্রমণ। প্রায় ৩০০-রও বেশি আক্রান্ত। মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বুন্ডিবুগিও ভাইরাস (Bundibugyo virus) থেকে এই সংক্রমণ ছড়ায়। ইবোলার এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের কোনও ভ্য়াকসিন বা চিকিৎসা নেই।
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল টেড্রোস আধানম গ্রেবিয়াসিস জানিয়েছেন, করোনার মতো প্যান্ডেমিক বা মহামারির পর্যায়ে পৌঁছয়নি এই সংক্রমণ। আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
ইবোলা হল অতি সংক্রামক একটি ভাইরাস। তিনটি ভাইরাস- ইবোলা ভাইরাস, সুদান ভাইরাস ও বুন্ডিবুগিও ভাইরাস থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। শরীরের ফ্লুইড যেমন বমি, রক্ত বা বীর্য থেকে এই ভাইরাস মানবদেহে ছড়াতে পারে। অতি বিরল হলেও, ইবোলা সংক্রমণ ভয়ানক এবং তা প্রাণঘাতী আকার ধারণ করতে পারে। ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুহার পৌঁছতে পারে।
সাধারণত ইবোলা সংক্রমণের ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দেয়। জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে যন্ত্রণা, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয় প্রথমে। এরপরে বমি, ডায়েরিয়া, তলপেটে যন্ত্রণা, র্যাশ দেখা দেয়। কিডনি ও লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বমি বা মলের সঙ্গে রক্তপাতও হতে পারে। নার্ভ সিস্টেমেও প্রভাব ফেলে ইবোলা। ভ্রান্তি, বিরক্তিভাব এবং হিংস্র হয়ে উঠতে পারেন আক্রান্ত লোকজন।
বর্তমানে ইবোলার কোনও চিকিৎসা নেই। সংক্রমণ ধরা পড়লেই ইনটেনসিভ কেয়ারে থাকার পরামর্শ দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া, পুষ্টি ও সংক্রমণের চিকিৎসা করা হয়।