Israel Elections Update: ইজরায়েলে টানটান ভোটের লড়াই! নেতানিয়াহু থাকবেন না যাবেন? ভারতে কী প্রভাব?

সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়, চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আয়জেনকোট আশদদ শহরে ভোট দেন সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে। এমনিতে নেতানিয়াহু সে দেশের সবচেয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা নেতা। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দেশের অন্দরেই তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। নির্বাচনী নানা সমীক্ষায় প্রকাশ, নেতানিয়াহু হয়তো এবার গদি টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। যদিও তাঁর সমর্থনে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে প্রচার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, দেশবাসীকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারেননি। সন্ত্রাসবাদ ছাড়াও গাজাতে হামলা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবারের ভোটে সবচেয়ে বড় ইস্যু। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা কি ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের প্রভাবে প্রভাব ফেলবে? নেতানিয়াহু হেরে গেলে ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কি খারাপ হতে পারে?

Israel Elections Update: ইজরায়েলে টানটান ভোটের লড়াই! নেতানিয়াহু থাকবেন না যাবেন? ভারতে কী প্রভাব?

| Edited By: Purvi Ghosh

Oct 29, 2026 | 5:08 PM

ভোট দিয়েছে ইজরায়েল। এখন অপেক্ষা ফলাফল প্রকাশের। গাজা স্ট্রিপে অভিযান শুরুর পর এই প্রথম ইজরায়েলে সাধারণ নির্বাচন। ১২০ সদস্য বিশিষ্ট ইজরায়েলি পার্লামেন্টে বা ‘নেসেট’ কার দখলে থাকবে, ব্যালট বাক্সে ইতিমধ্যেই সেটা ঠিক করে দিয়েছেন সে দেশের মানুষ। চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত নেতানিয়াহু এখন সে দেশের কেয়ারটেকার প্রধানমন্ত্রী।

শেষ পাওয়া খবরে ১২০-র মধ্যে ৫৩টি আসন পেয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন দক্ষিণপন্থী লিকুদ পার্টি। তবে ম্যাজিক ফিগার ৬১। বিরোধী জোট, যার নেতৃত্বে ইয়াশার পার্টির প্রধান, দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আয়জেনকোট, পেয়েছে ৪৮টি আসন। দুই দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও খানিকটা দূরে আছে। ইতিমধ্যেই ৯০% ব্যালট গণনা হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কিং মেকার হতে পারে সংখ্যালঘু আরব দলগুলি। যাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের দখলে দেশের ৯% ও প্রায় ৬% ভোট। সবচেয়ে জনপ্রিয় সংখ্যালঘু দলের একটি নেতানিয়াহুকে বাইরে থেকে সমর্থন জানাতে রাজি। অন্য দলটি আবার কট্টর নেতানিয়াহু বিরোধী। আরব নাগরিকদের জন্য যে সরকার সবচেয়ে সুবিধাজনক নীতি নেবে, তাদের দিকে সমর্থনের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে দু পক্ষই। আরব দলগুলির দখলে রয়েছে প্রায় ১৯টি আসন। তবে এখনও ৫ লাখ ব্যালট গোনা বাকি। যার মধ্যে রয়েছে দেশের সেনা, কূটনীতিবিদদের ভোট যেগুলি তাঁরা ডাকযোগে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ৭৮ বছরের ইতিহাসে এটাই ইজরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এখন ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রশ্ন উঠতেই পারে, ইজরায়েলে নেতানিয়াহুর গদি উল্টালে ভারতের সঙ্গে সু-সম্পর্কে কি কোনও প্রভাব পড়বে? বিশেষত নেতানিয়াহু যখন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তাঁর বিশেষ বন্ধু বলেন বারবার! ফলাফল প্রকাশের প্রাক্কালে আসুন, উত্তরটা জেনে নিই।

নেতানিয়াহুর আমলে একটা তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। সেদিন ইহুদিদের পবিত্র উৎসব শেমিনি অ্যাতজারেত ও সাপ্তাহিক ছুটি শাবাথের দিন দক্ষিণ ইজরায়েলে হামলা চালায় প্যালেস্টাইনের জঙ্গি সংগঠন হামাস। প্রায় ১১৯টি জায়গায় ট্রাক, মোটরবাইক, বুলডোজার ও ৪৫০০ রকেট নিয়ে হামলা চলে। ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ গাজা উপত্যকা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়ে ৬০০০ জঙ্গি। সরকারি হিসাবে ১২০০ জনকে হত্যা, সাড়ে তিন হাজার ইজরায়েলিকে জখম করে জঙ্গিরা। ২৫১ জনকে অপহরণ করে গাজা স্ট্রিপে নিয়ে যায় জঙ্গিরা, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই আম নাগরিক।

হামাসের ওই হামলার পর এটাই দেশে প্রথম নির্বাচন। শাসক ও বিরোধী জোট, দু’পক্ষই সকাল সকাল ভোটদান করে। সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহন শুরু হয়, চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আয়জেনকোট আশদদ শহরে ভোট দেন সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে। এমনিতে নেতানিয়াহু সে দেশের সবচেয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা নেতা। কিন্তু এবারের নির্বাচনে দেশের অন্দরেই তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। নির্বাচনী নানা সমীক্ষায় প্রকাশ, নেতানিয়াহু হয়তো এবার গদি টিকিয়ে রাখতে পারবেন না। যদিও তাঁর সমর্থনে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে প্রচার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, দেশবাসীকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারেননি। সন্ত্রাসবাদ ছাড়াও গাজাতে হামলা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবারের ভোটে সবচেয়ে বড় ইস্যু। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা কি ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের প্রভাবে প্রভাব ফেলবে? নেতানিয়াহু হেরে গেলে ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কি খারাপ হতে পারে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সে আশঙ্কা প্রায় নেই বললেই চলে। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সরকার বদলালেও ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কারণ, এই দুই দেশের সম্পর্ক কোনও ব্যক্তিবিশেষের রসায়নে আটকে নেই, বরং এর শিকড় অনেক গভীরে। যার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, জাতীয় নিরাপত্তা। রাশিয়া এবং ফ্রান্সের পর ইজরায়েলই ভারতের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী দেশ। কারগিল যুদ্ধ থেকে শুরু করে বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক— ভারতের চরম সংকটে ইজরায়েল সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছে। ইজরায়েলে ডানপন্থী, বামপন্থী — যে সরকারই আসুক না কেন, ভারতের মতো এত বড় সামরিক বাজার তারা হারাতে চাইবে না। এতে তাদেরও অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে।

  • প্রতিরক্ষা, কৃষি, প্রযুক্তি ও তথ্য বণ্টনে ভারত ও ইজরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ রয়েছে
  • একথা জানিয়ে দুই দেশের দৃঢ় সম্পর্কের আশ্বাস ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি দূত মিশেলো সিরোতা-র
  • সরকার পাল্টালেও ভারতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে বদল নয়, নিশ্চিত অ্যালেক পোলার্ডের মতো ভোট কুশলীরাও
  • ‘নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও দিল্লির দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে ভারতের সমর্থন চাইবেন’
  • পোলার্ডের মতে, ‘নেতানিয়াহুর সঙ্গে মোদীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাবে না’
  • বারাক ৮, আইস ব্রেকার মিসাইল সিস্টেম, হেরণ, হ্যারপের মতো ড্রোন ভারতকে পাঠায় ইজরায়েল
  • ভারতও দামি রত্ন, ধাতু, রাসায়নিক, কাপড়-সহ ড্রোন ও রকেটের মোটর পাঠায় তেল আভিভে

আসলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক শুধু সামরিক অস্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজস্থান বা হরিয়ানার শুষ্ক অঞ্চলে ইজরায়েলি প্রযুক্তিতে চাষাবাদ হচ্ছে। জল সংরক্ষণ ও রিসাইক্লিং প্রজেক্টে কাজ করছে দুই দেশ। এই সব চুক্তি কোনও একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দুই দেশের সরকারি স্তরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি। দুই দেশের মধ্যে কোটি কোটি ডলারের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট বা FTA রয়েছে। পাশাপাশি ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনোমিক করিডর বা IMEC -র মতো ব্যবস্থা শুধু এই দুই দেশের মন্ত্রীদের উপর নির্ভরশীল নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি দ্বারা সুরক্ষিত। নেতানিয়াহু চলে গেলেও এই আদান-প্রদান থমকে যাবে না। এর পাশাপাশি, ভারত, ইজরায়েল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী মিলে গড়ে তুলেছে ‘I2U2’ জোট। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে ইজরায়েলের নতুন সরকারের কাছেও ভারত সমান গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

সবমিলিয়ে, নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সম্পর্কের মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থের ওপর। তাই ইজরায়েলের মসনদে নেতানিয়াহু থাকুন বা নতুন কেউ আসুন— ভারত ও ইজরায়েলের এই ঐতিহাসিক ও কৌশলগত বন্ধুত্ব অটুটই থাকবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us