
টানা ৮ দিন ধরে ক্রমাগত পড়ার পর ২৩ হাজারের নীচে রয়েছে নিফটি ৫০। ৭৬ হাজারের নীচে ট্রেড করছে বিএসই সেনসেক্সও। উল্লেখ্য ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত ৩.৪১ শতাংশ বা ৮১০ পয়েন্ট পড়েছে নিফটি ৫০। এই একই সময়ে ৩.৩৭ শতাংশ বা ২,৬৪৪ পয়েন্ট পড়েছে বিএসই সেনসেক্স।
আর এর ফলে ধাক্কা খেয়েছে টাটা গ্রুপও। বর্তমানে টাটা গ্রুপের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৪০০ বিলিয়ন ডলার বা ৩৪ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। যা ২০২৪ সালে পাকিস্তানের জিডিপি যেখানে পৌঁছাবে আশা করা হচ্ছে, সেই ৩৪৭ বিলিয়ন ডলারের থেকেও বেশি। টাটা গ্রুপ বর্তমানে ৬টি মহাদেশের ১০০টির বেশি দেশে নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
টাটা গ্রুপের অনেক সংস্থাই এখন ৪২ শতাংশ ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে
টাটা মোটরস
টাটা গ্রুপের অন্যতম বড় সংস্থা টাটা মোটরস। বাস, ট্রাক, ইউটিলিটি ভেহিকল, ডিফেন্স ভেহিকল বা জাগুয়ার-ল্যান্ড রোভারের মতো লাক্সারি গাড়ি তৈরি করে এই সংস্থা। বর্তমানে টাটা মোটরসের বাজারি মূলধন বা মার্কেট ক্যাপ ২ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা। শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারি বাজার বন্ধের সময় এই সংস্থার শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৬৮০ টাকার কাছাকাছি। ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই এই সংস্থার শেয়ার ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দর ১,১৭৯.০৫ টাকা ছুঁয়েছিল। সেই দামের তুলনায় ১৪ ফেব্রুয়ারির দাম প্রায় হিসাব করলে দেখা যাবে প্রায় ৪২ শতাংশ পড়েছে শেয়ারের দাম।
টাটা এলেক্সি
আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করে টাটার এই সংস্থা। টাটা এলেক্সির মার্কেট ক্যাপ ৩৮ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় এই সংস্থার শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ৬ হাজার ১৭৩ টাকা। আর এই দাম সংস্থার ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দরের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ পতন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ৯ হাজার ৮২ টাকা ছুঁয়েছিল টাটা এলেক্সির শেয়ারের দাম। আর এটাই এই সংস্থার ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দর।
টাটা কমিউনিকেশন
৪২ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা মার্কেট ক্যাপ টাটা কমিউনিকেশন লিমিটেডের। ১৪ ফেব্রুয়ারি বাজার বন্ধের সময় এই সংস্থার শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ১৫০০ টাকা। যা নাকি এই সংস্থার ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ৩১ শতাংশ কম।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এই সংস্থার শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ১৭৫ টাকা। যা নাকি এই সংস্থার ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দর। তারপরই ক্রমাগত পড়তে থাকে সংস্থার শেয়ারের দাম। টাটা কমিউনিকেশন আগে বিদেশ সঞ্চার নিগম লিমিটেড নামে পরিচিত ছিল। এই সংস্থা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভয়েস ও ডেটা ট্রান্সমিশন পরিষেবা দিয়ে থাকে। এ ছাড়াও সমুদ্রের নীচে তাদের কেবল সিস্টেমও বিছানো রয়েছে। তারা সেখানের ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে বা ভাড়া দেয়।
টাটা টেকনোলজিস লিমিটেড
টাটার এই সংস্থার মার্কেট ক্যাপ ২৯ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দর ১ হাজার ১৭৯ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছিল তারা। তারপর ক্রমাগত পড়েছে শেয়ারের দাম। আর সেই তুলনায় ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সংস্থার শেয়ারের দাম গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৩৩ টাকায়। আর ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এই দাম প্রায় ৩৮ শতাংশ কম।
তবে, কোনও বিনিয়োগ করতে চাইলে সেই বিষয়ে যথাযথ তথ্যানুসন্ধান ও অ্যানালিসিস করুন। এই লেখা শুধুমাত্র শিক্ষাগত উদ্দেশ্যে। TV9 বাংলা বিনিয়োগের কোনও উপদেশ দেয় না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যে কোনও বিনিয়োগে বাজারগত ঝুঁকি রয়েছে। ফলে, আগে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত নথি সাবধানে পড়ে নেবেন। তারপর বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।