India GDP Growth and Apple Market: আইফোনের জন্য লম্বা লাইন, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির সঙ্গে রয়েছে যোগ
Apple Expands Focus on Indian Market: অনেকের মনে প্রশ্ন জাগবে, জিডিপি আর আইফোন বিক্রির মধ্যে কী সম্পর্ক? সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। আবার এক্ষেত্রে আছেও। মোবাইল ফোন নির্মাতাদের সংস্থা IAMAI-এর দাবি, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ৬ মাসে ভারত থেকে রেকর্ড ফোন রফতানি হয়েছে। দেশজুড়ে পঞ্চাশটির বেশি কারখানা থেকে ফোন এবং যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু হয়েছে। মূলত এর হাত ধরেই জিডিপির লাফ।

নয়াদিল্লি: চলতি আর্থিক বছরে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ বা তার বেশিই থাকবে। বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সুখবর দিল মুডিস এবং গ্লোবাল এনকে। দুই সংস্থাই আগের পূর্বাভাস পালটে ভারতের জিডিপির হার বাড়াল। কয়েকদিন আগে কেন্দ্রের তরফে প্রকাশিত জিডিপির হার নিয়ে একের পর এক বিতর্ক। সেই আবহেই ২ সেপ্টেম্বর ভারতের ক্রেডিট রেটিং বাড়ানোর ঘোষণা করে জাপানের উপদেষ্টা সংস্থা জেসিআরএ। ভারতের রেটিং বাড়ানো নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দেয় আরেক রেটিং এজেন্সি ফিচ। এদিন মুডিস এবং গ্লোবাল এনকে-ও ভারতীয় অর্থনীতি নিয়ে থাম্বস আপ দিল।
ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার নিয়ে আলোচনার মাঝে আরও একটি বিষয় নিয়ে তোলপাড় পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা ১ মিনিটে ভারতে আইফোন এইট্টিনের বিক্রি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অ্যাপল স্টোরগুলোতে লাইন পড়া শুরু হয়। অ্যাপলের মার্কেটিং টিম আর সময় নষ্ট করতে চায়নি। বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা থেকে এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭ ঘণ্টায় ৬০ হাজারের বেশি আইফোন এইট্টিন বিক্রি হয়েছে। লোকজন লম্বা লাইন দিয়ে ফোন কিনে বাড়ি ফিরলেন।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগবে, জিডিপি আর আইফোন বিক্রির মধ্যে কী সম্পর্ক? সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই। আবার এক্ষেত্রে আছেও। মোবাইল ফোন নির্মাতাদের সংস্থা IAMAI-এর দাবি, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ৬ মাসে ভারত থেকে রেকর্ড ফোন রফতানি হয়েছে। দেশ জুড়ে পঞ্চাশটির বেশি কারখানা থেকে ফোন এবং যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু হয়েছে। মূলত এর হাত ধরেই জিডিপির লাফ।
আইফোন এইট্টিন প্রো’র দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। এটা বেসিক মডেল। আর প্রো ম্যাক্সের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকারও বেশি। এতে কার কী বলার আছে? দুটো মডেলের ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দাম আড়াই – তিন লাখ টাকার উপরে। এত টাকা দিয়ে ফোন কেনার ক্ষমতা যাঁদের আছে তাঁরা কিনবেন। অ্যাপল এবার একটা দারুণ মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে। স্টিভ জোবস থেকে টিম কুক হয়ে অ্যাপলের ভার এখন জন টারনাসের হাতে। জোবস বা কুকের সময়ে ভারতে ওরা যখন ব্যবসা করছে, তখন ওদের কাছে ভারত কিন্তু ১৪০ কোটি মানুষের দেশ নয়। মেরেকেটে সাড়ে ৫ কোটি মানুষের দেশ। কারণ ভারতের এই সাড়ে ৫ কোটি মানুষ আইফোন কিনবেন বা কিনতে চাইবেন।
আগে অ্যাপল নতুন মডেল বাজারে আনার পর ধাপে ধাপে পুরনো মডেলগুলো তুলে নিত। এবার সেটা হয়নি। বরং পুরনো মডেলগুলো রেখে দেওয়া হচ্ছে নয়তো আপগ্রেড করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তবে অ্যাপল পুরনো সেইসব মডেলের দাম গড়ে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ওরা ভারতকে ১০০ কোটির দেশ হিসাবেই দেখছে। অ্যাপলের লক্ষ্য, ওরা আর সুপার এলিট বা হাই প্রোফাইল ফোন কমিউনিটি হয়ে থাকবে না। বরং বিভিন্ন রকম মডেল এনে মধ্যবিত্ত ভারতীয়দের জীবনে ঢুকবে। অ্যাপল মনে করছে, ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় আইফোনের কোনও মডেল পেলেই ভারতীয়দের একটা অংশ নিজেদের ব্র্যান্ড ছেড়ে অ্যাপলে ঝুঁকবে। আর অ্যাপল প্রেমী এবং প্রিমিয়াম কাস্টমারদের জন্য তাঁদের নতুন মডেলগুলো থাকছেই। অ্যাপল এখন ভারতকে কেন্দ্র করেই তাঁদের বিপণন এবংপ্রোডাকশন কৌশল তৈরি করছে। তাই ভারতই যে ওদের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে, এতে আশ্চর্য কী?
