
শমিতা সাহা, সেবি শংসায়িত বিশেষজ্ঞ
সঞ্চয় থেকে নিবেশের পথে শুরু হল নতুন আর্থিক বছর ২০২৬-২৭ । চৈত্র মাসের সেলে পুজোর অধিকাংশ কেনাকাটা সেরে অনেকটা টাকা বাঁচিয়ে খুশি হন সাধারণ মানুষ। কিন্তু ওই টাকাটা বাঁচিয়ে কী করছেন? শুধু সঞ্চয় কি যথেষ্ট?
আর্থিক লক্ষ্য (Financial Goal) পূরণ করার জন্য প্রয়োজন মূলধনের বৃদ্ধি। ধরুন আপনি ২৫০০০ টাকা বিনিয়োগ করছেন এমন কোনও প্রকল্পে, যেখানে আপনার টাকা দ্বিগুণ হচ্ছে ১০ বছরে। সেখানে টাকার অঙ্ক বেড়ে হবে ৫০,০০০। সেটাই যদি আপনি এমন কোনও প্রকল্পে বিনিয়োগ করেন, যেখানে টাকা ডবল হচ্ছে ৫ বছরে, তাহলে ১০ বছরে আপনার টাকা দ্বিগুণ নয়, হয়ে যাবে চারগুন। অর্থাৎ ১০ বছরে হবে ১ লক্ষ টাকা।
কারণ, পাঁচ বছরের পর থেকে আপনার সুদের অংশ সুদ উসুল করতে শুরু করে দিয়েছে, যাকে বলা হয় পাওয়ার অব কম্পাউন্ডিং। এটি হল সম্পদ বৃদ্ধির চাবিকাঠি।
এটি মূলত একটি সাধারণ ফর্মুলা, যার মাধ্যমে অর্থবৃদ্ধি সম্ভব হতে পারে। এর তিনটি প্রধান উপাদান হল- ১. আপনি কত মূলধন দিয়ে শুরু করছেন, ২. আপনি কত সুদের হার পাচ্ছেন আর ৩. আপনি কতটা সময় ধরে টাকা খাটাচ্ছেন। এই তিনটি উপাদান যত বেশি হবে, আপনার আর্থিক বৃদ্ধি ততই বেশি হবে।
উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক-
দুই বন্ধু শর্মিষ্ঠা আর সুচিত্রা। একসঙ্গে চাকরি পেয়ে দুইজনই সিদ্ধান্ত নেয় যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করবে। ২০ বছর পরে তাদের বিনিয়োগ কেমন রূপ নেবে দেখে নেওয়া যাক।
১. শর্মিষ্ঠা প্রতি মাসে ৭৫০০ টাকা বিনিয়োগ করে। ২০ বছরে ৪৪.৪৭ লক্ষ টাকা জমিয়েছে (সুদের হার ৮%) সে। সেখানে সুচিত্রা প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে ৮ শতাংশ সুদের হারে জমিয়েছে ৫৯.২৯ লক্ষ টাকা। (এ ক্ষেত্রে সময়সীমা আর সুদের হার সমান)।
২. শর্মিষ্ঠা আর সুচিত্রা দু’জনেই ৭৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে জমিয়ে ২০ বছর পরে শর্মিষ্ঠার ৮ শতাংশ সুদের হারে হচ্ছে ৪৪.৪৭ লক্ষ টাকা আর সেখানে সুচিত্রা ১২ শতাংশ সুদের হারে জমিয়ে ফেলেছে ৭৪.৯৩ লক্ষ। (এ ক্ষেত্রে মূলধন আর সময়সীমা সমান)
৩. শর্মিষ্ঠা ৭৫০০ টাকা প্রতিমাসে জমিয়ে ৮ শতাংশ সুদের হারে ২০ বছরে ৪৪.৪৭ লক্ষ জমিয়েছে আর সুচিত্রা সমান টাকা ২৫ বছর অবধি জমিয়ে পেয়েছে ৭১.৮০ কোটি টাকা।(মূলধন আর সুদের হার সমান)
এই তিনটি উপাদান মাথায় রেখে সঠিক বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদি নিবেশ করে নিজেকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে তুলুন।
আপনি যদি কষ্ট করে টাকা বাঁচিয়ে সেই টাকা সেভিংস অ্যাকাউন্টে রেখে দেন, তাহলে অতি অল্প সুদে বিশেষ বাড়বেও না মুদ্রাস্ফীতিকেও টেক্কা দিতে পারবেন না। যদি খোঁজ খবর নিয়ে কোনও নিরাপদ বিনিয়োগ করেন, তাহলে সেটি দ্বিগুণ হবে ৮-১০ বছরে। কেউ যদি বলে ২-৩ বছরে বা তারও কম সময়ে টাকা ডবল করে দেবে, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হবেন, কারণ অর্থনৈতিক কাঠামোর একটা নিজস্ব অঙ্ক আছে।