
নিশ্চিত নিরাপত্তা ও দারুণ রিটার্ন, একসঙ্গে সাধারণত কোনও বিনিয়োগেই হয় না। আপনি যদি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেন, তাহলে দারুণ রিটার্নের সম্ভাবনা যেমন থাকে তেমনই রিস্ক ফ্যাক্টারও কাজ করে দারুণ ভাবে। আবার ফিক্সড ডিপোজিট, যেখানে বিনিয়োগে কোনও রিস্ক নেই, রিটার্ন নিশ্চিত। কিন্তু সেই রিটার্নকে একেবারেই দারুণ রিটার্ন বলে আখ্যা দেওয়া যাবে না।
তবে, পোস্ট অফিসের পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম এই ক্ষেত্রে একটা সেরা বিকল্প হতে পারে। এ ছাড়াও এই পোস্ট অফিসের স্কিম সরকার সমর্থিত হওয়ায় টাকার সুরক্ষার নিয়েও কোনও চিন্তা নেই। অস্থির বাজারের ওঠানামার চেয়ে এই স্কিমটি অনেক বেশি স্থিতিশীল।
একটি সহজ অঙ্ক এখানে আপনাকে বুঝতে হবে। আপনার যদি দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের লক্ষ্য থাকে তাহলে আপনাকে সেই অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে হবে। যদি প্রতি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থাৎ, বছরে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে ১৫ বছরে আপনার সঞ্চয়ের মোট পরিমাণ হবে প্রায় ৪০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে আপনার মোট বিনিয়োগ থাকবে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে সুদ হিসেবে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা।
এই স্কিমের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল এর ট্রিপল ট্যাক্স বেনিফিট। অর্থাৎ, এখানে আপনি যে টাকা বিনিয়োগ করেন, সেখান থেকে যা সুদ পান ও এই স্কিমের মেয়াদ শেষে যে টাকা রিটার্ন আসে, এর সবটাই করমুক্ত। উচ্চবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত, দেশের সব পরিবারের জন্যই এই সুবিধাটি গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্র ৫০০ টাকা দিয়ে যে কেউ এই পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ডে বিনিয়োগ শুরু করতে পারবেন। মেয়াদের পর ৫ বছর করে আপনি এই অ্যাকাউন্টটির সময়সীমা বাড়াতে পারবেন। জরুরি অবস্থায় আপনি এই অ্যাকাউন্টকে আমানত হিসাবে ব্যবহার করে ঋণও নিতে পারবেন। এ ছাড়াও ৫ বছর পর আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী আংশিক টাকা তুলে নিতেও পারেন। এইভাবে এই একটি পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট আপনার একাধিক চাহিদা মিটিয়ে দেবে।