
পূর্বস্থলী: বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল শিবিরে ভাঙন। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের প্রাক্তন সংখ্যালঘু সেলের ব্লক সভাপতি রফিজুল শেখ ওরফে কালোর নেতৃত্বে ঘাসফুল শিবির ছেড়ে হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-তে যোগদান করল ১৫০-র বেশি পরিবার। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির সম্পাদক বাবান ঘোষের হাত থেকে পতাকা তুলে নেয় তারা।
পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের নাদনঘাটে মঙ্গলবার জেইউপি-র একটি দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন হয়। সেখানেই তৃণমূল ছেড়ে হুমায়ুনের দলে যোগদান অনুষ্ঠান হয়। পূর্বস্থলীতে নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে জনতা উন্নয়ন পার্টির সম্পাদক বাবান ঘোষ তৃণমূলকে নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার বিদ্যানগরের গঙ্গানন্দপুরে পুকুর সংস্কারের নামে দেদার মাটি কেটে পাচার চলছে।
পাল্টা এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তৃণমূলের পূর্বস্থলী ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক। তিনি বলেন, কে এই বাবান ঘোষ? তাঁকে এই এলাকার ক’জন মানুষ চেনেন? তিনি কি এলাকার মাটি চেনেন? অভিযোগ থাকলে BLRO-র কাছে অভিযোগ জমা দিচ্ছেন না কেন? প্রশ্ন তাঁর। পাশাপাশি তৃণমূল ছেড়ে JUP-তে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের ওই এলাকায় সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি শহিদুল শেখ। তিনি আমাদের দলেই আছেন। কে কোথা থেকে কী বলছেন তা জানি না।”
মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর গত বছরের ডিসেম্বরেই নতুন দল গঠন করেছেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপি বিরোধী দলগুলির সঙ্গে জোট গঠনের চেষ্টা করছেন তিনি। বারবার সিপিএম, আইএসএফ-কে জোটবার্তা দিচ্ছেন। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে ১০০টি আসন জিতবে তাঁর দল। মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী দেবেন বলে জানিয়েছেন। এই আবহে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে তৃণমূল ছেড়ে এই পরিবারগুলির জেইউপি-তে যোগদান যে হুমায়ুন কবীরকে অক্সিজেন জোগাবে, তা বলাই বাহুল্য।