
মালদহ: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। সেই ভোটে কি লড়বে না কংগ্রেস? তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে আসা মৌসম নুরের মন্তব্যে বাড়ল জল্পনা। এসআইআর-এ ‘অমীমাংসিতের’ তালিকা তুলে সোমবার মৌসম নুর বলেন, এর সমাধান না হলে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন বয়কটের জন্য প্রদেশ কংগ্রেসকে প্রস্তাব দেবেন তিনি। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল, বিজেপি আর নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সেটিং রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আর সেখানে মালদহে অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটার। এই অবস্থায় সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়াতে ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিলেন কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নুর। এদিন মালদা জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর পাশে বসে মৌসম বলেন, “বিজেপি কেন্দ্রে এবং তৃণমূল রাজ্যে যেদিন থেকে ক্ষমতায় এসেছে, একটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষ ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যে ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে, তাতে তৃণমূল-বিজেপি এবং কমিশনের সেটিং স্পষ্ট। ২০২১ সালে এনআরসি-র নামে বিভাজনের যে রাজনীতি হয়েছিল, আবার সেটা চাইছে তারা। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনীতি চলছে। কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।”
এরপরই তিনি বলেন, “মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে বিচারাধীনের তালিকায় রাজ্যের মধ্যে সব থেকে বেশি নাম রয়েছে। তৃণমূল, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সেটিং করে চক্রান্ত করা হচ্ছে। তাই বিচারাধীনদের নাম তালিকায় যোগ না হলে ভোট বয়কট করা উচিত। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সে প্রস্তাব জানাব।” মৌসমকে সমর্থন করে দোল উৎসবের পরে জেলাজুড়ে পথে নামার হুঁশিয়ারি দেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ ইশা খান চৌধুরী।
এই নিয়ে বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “মৌসম নুরকে বলতে চাই, তাঁদের ভোট বয়কট করতে হবে না। গোটা পশ্চিমবঙ্গই কংগ্রেসকে বয়কট করেছে। ২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গেই জোট করে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল। পরে তৃণমূল তাদের ছুড়ে ফেলে দেয়। গোটা পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক নেই। বিজেপিই তৃণমূলের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। মৌসম নুর যা কথা বলছেন, তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও যোগ নেই।”
অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, “বিজেপির মদতপুষ্ট নির্বাচন কমিশন একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে ৬০ লক্ষকে বিচারাধীন রেখেছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন বলে এই ৬০ লক্ষের নাম বিচারাধীন রেখেছে। না হলে বাদ দিয়ে দিত। আর আমরা ভোট বয়কটকে সমর্থন করি না। কংগ্রেসের ওটা রাজনৈতিক ইস্যু। কংগ্রেস বাংলায় কোনও ফ্যাক্টরই নয়।”