
কলকাতা: রাজ্যে চতুর্থবার তৃণমূলের ক্ষমতায় আসা নিয়ে আশাবাদী শাসক নেতারা। এই আবহে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়েও বাড়ছে জল্পনা। কাদের টিকিট দেওয়া হবে? নবীন-প্রবীণের মেলবন্ধনে কীভাবে প্রার্থী তালিকা তৈরি হবে? আরও একটি প্রশ্ন উঠে আসছে, এবার কি এক পরিবার একটাই টিকিট ফর্মুলা নেবে তৃণমূল নেতৃত্ব? সূত্রের খবর, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এমন ফর্মুলা অনুসরণ করতে পারে রাজ্যের শাসকদল। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার পরিবারের কারা টিকিট পেতে পারেন, তা নিয়েও বাড়ছে জল্পনা।
রাজ্যজুড়ে তৃণমূলে বহু প্রভাবশালী নেতা এবং তাঁদের ছেলে-মেয়েরা রাজনীতিতে সক্রিয়। আবার কোথাও স্বামী-স্ত্রী তৃণমূলের পদে রয়েছেন। রাজ্যের শাসকদলের এইসব পরিবারগুলিতে টিকিটের দাবিদার একাধিক। কলকাতাতে যেমন এরকম শাসক নেতার পরিবার রয়েছে, তেমন জেলাগুলিতেও রয়েছে। ছাব্বিশের নির্বাচনে এইসব পরিবারে কারা টিকিট পাবেন, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
কলকাতায় যেমন রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অতীন ঘোষ, স্বর্ণকমল সাহা এবং সুপ্তি পাণ্ডেরা। কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র এবং কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। তাঁর মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিমকেও তৃণমূলের নানা কর্মসূচিতে দেখা যায়। কলকাতা পৌরনিগমের ডেপুটি মেয়র ও কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক অতীন ঘোষ। তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী ঘোষও তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের নেত্রী।
আবার ২০১১ সাল থেকে এন্টালির বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা। তাঁর ছেলে সন্দীপন সাহা কলকাতা পৌরনিগমের কাউন্সিলর। সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না বলে ইতিমধ্যে দলকে বার্তা দিয়েছেন স্বর্ণকমল। তিনি চাইছেন, তাঁর আসনে ছেলে সন্দীপনকে প্রার্থী করা হোক। আবার মানিকতলার বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডেও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত। সাধন পাণ্ডের প্রয়াণের পর মানিকতলা আসনে উপনির্বাচনে সুপ্তি না শ্রেয়া কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছিল। শেষপর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্তিকে বেছে নেন। বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বাবা দুলাল দাস মহেশতলার বিধায়ক। সূত্রের খবর, আর নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান না বলে দলকে বার্তা দিয়েছেন দুলাল।
জেলার দিকে নজর দিলে দেখা যাবে, বেচারাম মান্না ও তাঁর স্ত্রী করবী মান্না শাসকদলের বিধায়ক। সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম। আর তাঁর স্ত্রী হরিপালের বিধায়ক। আবার ২০১১ সাল থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের বিধায়ক হিসেবে রয়েছেন অখিল গিরি। তাঁর পুত্র সুপ্রকাশ গিরিও শাসকদলের নেতা। কোচবিহারের দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। তাঁর পুত্র সায়ন্তন গুহও শাসকদলের নেতা। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক। এরকম বিভিন্ন জেলাতেই শাসকদলের একাধিক নেতার পরিবারের অনেকেই রাজনীতিতে সক্রিয়। দলের বিভিন্ন পদেও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই সব প্রভাবশালী বাবাদের ছেলেমেয়েদের টিকিট পাওয়া নিয়ে জল্পনা চলে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নবীনদের পক্ষে বারবার সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে। তবে প্রবীণদেরও প্রয়োজন বলে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। এই আবহে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে শাসক শিবির এক পরিবার এক টিকিট নীতি নিতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তেমনই কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হতে পারে। এখন দেখার, ছাব্বিশের নির্বাচনে কারা টিকিট পান। রাজনীতির কারবারিরা অবশ্য বলছেন, শেষ মুহূর্তে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী সিদ্ধান্ত নেন, তার উপরই সব কিছু নির্ভর করবে।