
উত্তর ২৪ পরগনা: SIR এ বিবেচনাধীনের তালিকায় নাম ছিল শশী পাঁজার। কেবল শশী পাঁজাই নন, তৃণমূলের আরও ১১ প্রার্থীর নামও বিবেচনাধীন ছিল। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর শশী পাঁজা, কাজল শেখের নাম উঠলেও এখনও বিবেচনাধীন ৯ জন প্রার্থী। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন উত্তর কলকাতার একটি বড় অংশের ভোটারদের নাম ‘ভেরিফিকেশন’-এর জন্য আলাদা করে রেখেছে। এর পিছনেও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করেছে তৃণমূল। সেই তত্ত্ব ভাঙতে গিয়েই শশী পাঁজার নাম ওঠা নিয়েই মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
সুকান্তর বক্তব্য, “শশী পাঁজার ব্যাপারটা মানা যায়, কারণ শশী পাঁজা তো সাউথ্ ইন্ডিয়ান। উনি তো বাঙালি নন। বাঙালির সঙ্গে বিয়ে হয় বাঙালি হয়েছে। ওনার নাম থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে, আমার জানা নেই। বা ইচ্ছাকৃত ভুলও হতে পারে।”
প্রসঙ্গত, বর্তমান মন্ত্রী তথা শ্যামপুকুর কেন্দ্রের প্রার্থী শশী পাঁজার নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ইস্যুতে অর্থাৎ ঠিকানার অসঙ্গতির কারণে ‘বিবেচনাধীন’ বা হোল্ডে রাখা হয়েছে। কিন্তু শনিবারই এই ইস্যুটি তুলে ধরে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-র ইশারায় নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বা জটিলতায় ফেলার চেষ্টা করছে।
সে প্রসঙ্গেই এদিন সুকান্ত বলেন, “পুরোটার ওপরেই সুপ্রিম কোর্টের নজর রয়েছে। নীচে কাজ করছেন বিএলওরা। যাঁরা প্রত্যেকেই রাজ্য সরকারের কর্মচারী।” এরপরই সুকান্ত নিজেকে বিএলও-র সঙ্গে তুলনা করে বলেন,”ধরুন আমি বিএলও, কোনও নাম তুলতে গিয়ে ভুল করলাম। সেটা স্বাভাবিকও হতে পারে, ইচ্ছাকৃতও হতে পারে। এরকম নয় তো, তৃণমূলের কথাতেই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে ইচ্ছাকৃত ভুল বিএলও-কে দিয়ে করানো হয়েছিল!” তারপরই শশী পাঁজার প্রসঙ্গে বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, এসআইআর-এর তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত। তিনটি অতিরিক্ত তালিকায় ২৪ লক্ষ ১০ হাজারের নাম প্রকাশ হয়েছে। প্রথম দুটি তালিকায় ২২ লক্ষের নাম প্রকাশিত হয়। তৃতীয় তালিকায় রয়েছে ২ লক্ষ ১০ হাজারের নাম। এখনও পর্যন্ত ৩৭ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের নিষ্পত্তি। সূত্রের খবর, তিনটি তালিকা মিলিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। চূড়ান্ত ও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৭৬ লক্ষের নাম বাদ বলে সূত্রের খবর। এবার থেকে প্রতিদিনই তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। ভোটের আগে যাতে সব নামের নিষ্পত্তি হয়, তার জন্য পরপর তালিকা প্রকাশ করছে কমিশন।