
আজ দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচন (Election 2026)। সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন। সাধারণ মানুষের মতোই সকাল সকাল বুথে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন অভিনেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী (Chiranjit Chakraborty)। গন্তব্য ছিল চারুচন্দ্র কলেজ। কিন্তু গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়েই বিপত্তি! যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে থমকে গেল ভোটদান প্রক্রিয়া। ইভিএম (EVM) খারাপ হয়ে যাওয়ায় ভোট না দিয়েই আপাতত কেন্দ্র ছাড়তে হল তাঁকে। তবে এই বিভ্রাটে মেজাজ হারানো তো দূরস্ত, বরং চিরঞ্জিতের গলায় শোনা গেল এক অদ্ভুত দায়িত্ববোধের সুর।
ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে চিরঞ্জিৎ বেশ সাবলীলভাবেই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করলেন। তিনি বলেছেন যান্ত্রিক গোলযোগ হতেই পারে, সেটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যেহেতু তিনি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র, তাই এ সব বিষয়ে কিছুটা ধারণা আছে। মেশিন খারাপ হলে সেটা সারাতে তো একটু সময় লাগবেই। তাই কিছুক্ষণ পরে এসে আবারও ভোট দিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। মৃদু হেসে তিনি যোগ করেন, ভোট দেওয়া তাঁর দায়িত্ব, তাঁর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। দেশ তো তাঁকে উদ্ধার করতেই হবে বলে জানান তিনি।
২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার বারাসতের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন চিরঞ্জিৎ। পরিবর্তনের ঝড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হয়ে ময়দানে নেমেছিলেন তিনি। প্রতিবারই নিজের ভোট দিয়ে তড়িঘড়ি ছুটতেন নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে। কিন্তু ২০২৬-এর চিত্রটা একটু আলাদা। এবার তিনি আর ভোটের ময়দানে প্রার্থী নন। বার্ধক্যজনিত কারণে নিজেই দলনেত্রীর কাছে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। দলও তাঁর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে এবার নির্বাচনী লড়াইয়ের চাপ থেকে মুক্তি দিয়েছে।
তাই এবার সেই অর্থে কোনও ‘বাড়তি টেনশন’ নেই অভিনেতার। নেই নিজের কেন্দ্রের বুথে বুথে ঘোরার তাড়া। সেই ফুরফুরে মেজাজেই ইভিএম বিভ্রাটকে হালকাভাবে নিলেন তিনি। ভোট না দিয়ে ফিরলেও, তাঁর কথায় স্পষ্ট যে ভোট দেওয়াটা কোনও উৎসব নয়, বরং দেশের প্রতি এক অপরিহার্য দায়বদ্ধতা। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবারও লাইনে দাঁড়াবেন তিনি, কারণ তাঁর কাছে দেশটা আগে। যান্ত্রিক ত্রুটি সাময়িক বাধা হতে পারে, কিন্তু ভোটারের জেদ তাতে দমেনি। তবে পরে চিরঞ্জিত ভোট দিয়েছেন কিনা তা এখনও জানা যায়নি।