
তালসারি চরে বিশাল গর্ত,চোরা বালি,পর্যাপ্ত নিরাপত্তাহীনতা সহ স্থানীয়দের সাহায্য না নিয়ে জলে শুটিং – রাহুলের মৃত্যুর মূল কারণ বলেই অনুমান উদ্ধারকারী বোটের মালিক সহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের মতে, ড্রোন ও শুটিং ক্যামেরাই পারে রাহুলের মৃত্যু রহস্য উন্মোচন করতে।
তালসারির শুটিং নিয়ে নানারকম বক্তব্য নিয়ে তরজা এখনও চলছে। ঘটনার চার দিন পার হলেও ধন্দ কাটেনি। স্থানীয় তালসারি মেরিন থানার অনুমতি ছাড়াই সেখানে শুটিং চলছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এরই মাঝে টিভি নাইন বাংলার কাছে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন দুই প্রত্যক্ষদর্শী। যার মধ্য়ে একজনের নৌকাতেই রাহুল ও শ্বেতাকে সৈকতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
যে নৌকা করে রাহুল ও শ্বেতাকে সমুদ্রের পারে নিয়ে আসা হয়েছিল, সেই নৌকার মালিক পুলিন চন্দ্র বেড়া জানান, ভগীরথ জানা নামে এক ব্যক্তি যাঁর সঙ্গে শুটিং পার্টির চুক্তি হয়, সে নৌকা নিয়ে যায়। পুলিনের কথায়, ”আমি কিছুই জানতাম না। আমার নৌকা নিয়ে চলে যায়। তারপর জল থেকে নায়িকা (শ্বেতা মিশ্র) এবং নায়ক (রাহুল)কে তুলে আনে। নায়ক তখনও বেঁচে ছিল। যখন ওকে গাড়িতে ওঠাচ্ছিল চিৎকার করছিল। এর কিছুক্ষণ পরে ফোন আসে যে, নায়কের মৃত্যু হয়েছে! আমি তো অবাক। মরেই গেল। আগে থেকে আমাদের এখানকার ছেলেরা থাকলে, এই দুর্ঘটনা ঘটত না।”
স্থানীয় বাসিন্দা বলরাম গঙ্গাইয়ের কথায়, যেখানে শুটিং চলছিল,সেখানে অল্প জল ছিল প্রথমে। তার একটু সামনেই প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট ঢালু গর্ত রয়েছে। সেটা ওরা বুঝতে পারেনি। যেই এগিয়ে গিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে গর্তে পড়ে গিয়েছে। ততক্ষণে জোয়ারের জল চলে আসে। জলের স্রোত দুজনকে টেনে নিয়ে যায়। তখন স্থানীয় লোক দেখতে পেয়েই উদ্ধারের জন্য ছুটে গিয়েছিল। যে উদ্ধার করতে গিয়েছিল, সে তো দুজনকে একসঙ্গে তুলতে পারেনি। হিরোইনের চুল ধরে প্রথম টেনে তোলা হয়। ততক্ষণে রাহুল প্রচুর জল ও বালি খেয়ে ফেলে।
বলরাম আরও জানান, ”পুরোটাই তো ড্রোনে শুটিং হচ্ছিল। ওরা নিজেদের বাঁচানোর জন্য সব লুকোচ্ছে। যখন জলে ডুবছে, তখন ড্রোন উপরে উড়ছিল। পুরো ঘটনাটাই ক্যামেরায় রেকর্ডিং আছে, ড্রোনে রয়েছে। ওরা ওসব তথ্য লুকিয়ে স্থানীয় লোকদের নামে ভুলভাল বলছে। সাতজন, আটজন লোকাল ছেলে থাকলে, তাহলে এরকম দুর্ঘটনা হত না। কয়েকদিন আগেও তো শুটিং হয়েছিল লোকাল লোক, নৌকা রেখেছিল। এখানে স্নানের দৃশ্যের শুটিং হয় না।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া শেষ করেছে। বালেশ্বর জেলার তালসারি মেরিন থানার পুলিশ ও দিঘা পুলিশ। দফায় দফায় পুলিশ গিয়ে তদন্ত করেছে বলেই জানিয়েছে স্থানীয়ও বোট সংগঠনের কর্মীরা। পাশাপাশি শুটিং আয়োজক সংস্থাকে পুরোপুরি দায়ী করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি তালসারি খুব ভালো জায়গা। বছরে ১৫-২০ টি শুটিং হয়। সকলেই স্থানীয় লোকদের নিয়ে কাজ করেন, তাই নিরাপদে কাজ শেষ হয়। কিন্তু এই বাংলা সিরিয়াল সংস্থা কোনও ভাবেই স্থানীয় লোকদের সহযোগিতা নেননি। ফলে এলাকার ভৌগলিক পরিস্থিতি না বুঝেই এত বড় বিপদ ঘটল এবং উড়িষ্যার তালসারি জায়গার বদনাম হল । ঘটনায় জেরে সমস্যায় পড়েছে এলাকার পর্যটন ব্যবসাও।