
বলিউডের পর্দায় তিনি অপরাজেয়। কখনও স্টান্টবাজিতে কুপোকাত করছেন ভিলেনকে, কখনও আবার কমেডি ছবিতে হাসাচ্ছেন দর্শকদের। সেই অক্ষয় কুমারই কিনা ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকেন? না, কোনও অ্যাকশন সিনের কথা হচ্ছে না। অভিনেতার বুক দুরুদুরু করে যখন তিনি কোনও উচ্চশিক্ষিত মানুষের মুখোমুখি হন। সম্প্রতি এক রিয়্যালিটি শো-তে নিজের মনের লুকানো সেই ভয়ের কথা স্বীকার করেছেন অভিনেতা।
সম্প্রতি একটি রিয়ালিটি শো-র মঞ্চে সোনালি নামের এক প্রতিযোগীর সঙ্গে আলাপ হয় অক্ষয়ের। সোনালির শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড় অভিনেতার। একের পর এক ডিগ্রি থাকা সেই তরুণীকে দেখে অক্ষয় সোজাসুজি বলেই ফেলেন, “আপনার মতো শিক্ষিত মানুষের সামনে দাঁড়ালে আমি নিজেকে বড্ড নগন্য মনে করি।” অভিনেতা অকপটে স্বীকার করেন, যেহেতু তিনি নিজে খুব বেশিদূর একটা পড়াশোনা করতে পারেননি, তাই উচ্চশিক্ষিত কেউ সামনে এলে অবচেতনভাবেই একটা হীনম্মন্যতা কাজ করে তাঁর মনে।
হাস্যরসের ছলে হলেও অক্ষয় এক অদ্ভুত সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, বই পড়তে বসলেই নাকি তাঁর চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে! আক্ষেপের সুরে অক্ষয় বলেন, “মাঝে মাঝে মনে হয় যদি একটু পড়াশোনা করতাম। কিন্তু এখন চাইলেও আর পারি না। আসলে পড়াশোনা বিষয়টাই আমার ভালো লাগে না, ব্যস এইটুকুই!” মজার বিষয় হল, যাঁর বই দেখলেই কান্না পায়, তাঁর স্ত্রী টুইঙ্কল খান্না কিন্তু একজন সফল লেখিকা। ইতিমধ্যেই চারটি বই লিখে ফেলেছেন তিনি, লিখছেন পঞ্চমটিও। অথচ অক্ষয় হাসতে হাসতে জানান, স্ত্রীর লেখা একটা বইও তিনি কোনওদিন ছুঁয়ে দেখেননি।
টুইঙ্কল খান্না যে চিরকালই মেধাবী, তা বলিপাড়ার সবারই জানা। অক্ষয় জানান, তাঁর স্ত্রী সম্প্রতি মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করেছেন এবং এখন পিএইচডি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘরে এমন বিদুষী স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অক্ষয়ের পড়াশোনায় অরুচি যায়নি। তবে সন্তানদের ক্ষেত্রে বেশ সচেতন অক্ষয়। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ছেলেমেয়েরা যেন বাবার মতো না হয়। তারা যেন যতটা সম্ভব পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
শিক্ষা যে জীবনের আসল ভিত, তা নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছেন অক্ষয়। দর্শকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন “পড়াশোনা করাটা খুব জরুরি। আমার মতো হওয়ার চেষ্টা করো না, বরং সোনালির মতো শিক্ষিত মানুষদের অনুসরণ করো।” আগামী ১০ এপ্রিল মুক্তি পেতে চলেছে অক্ষয় কুমারের নতুন ছবি ‘ভূত বাংলা’। এখন দেখার, বক্স অফিসের পরীক্ষায় অক্ষয় কত নম্বর পান!