
নয়ের দশকের বলিউডে অনেকেই সকলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনর্গল ইংরেজি বলা শুরু করেন। কিন্তু সেই যুগে দাঁড়িয়েও স্রোতের বিপরীতে হাঁটার সাহস দেখিয়েছিলেন অক্ষয় কুমার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয় কুমার নিজের সেই পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে জানালেন, কেন তিনি সবসময় মাতৃভাষাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছেন।
অক্ষয় কুমারের মতে, সেই সময়ে ইংরেজিতে কথা বলাটা একটা বড় ফ্যাশন বা আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু অক্ষয় কোনওদিন সেই ইঁদুর দৌড়ে সামিল হননি। তিনি অকপটে জানালেন, “সেই নয়ের দশকেও যখন কোনও অ্যাওয়ার্ড শো হতো, আমি স্পষ্ট বলে দিতাম যে আমি হিন্দিতেই কথা বলব। আজও আমি তাই করি।” অভিনেতা আরও যোগ করেন যে, বড় বড় কনক্লেভ বা অনুষ্ঠানে যেখানে সবাই ইংরেজিতে সড়গড়, সেখানেও তিনি হাত জোড় করে বিনয়ের সঙ্গেই জানান যে বাকিরা ইংরেজিতে কথা বললেও তিনি হিন্দিতেই নিজের বক্তব্য রাখবেন। কারণ, নিজের ভাষায় কথা বলতেই তিনি সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
সেই সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা রাজপাল যাদবও। অক্ষয়ের মন্তব্যের রেশ ধরেই তিনি জানান, একটি সিনেমার সেটে প্রায় ২৫০ জন মানুষ কাজ করেন। সেখানে যেমন পাঞ্জাবি বা মারাঠি রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন তামিল, মালয়ালি, অসমীয়া বা বাঙালির মতো বিচিত্র ভাষাভাষী মানুষ। রাজপাল বলেন, “সেটে ভাষার এই বৈচিত্র্য থাকলেও কখনও যোগাযোগের সমস্যা হয় না। কারণ সিনেমা নিজেই একটা ভাষা, আর সবাই সেটা বোঝে।” অক্ষয়ের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তিনিও স্পষ্ট করে দেন যে, কাজের জায়গায় ভাষা কখনও অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি।
অক্ষয় কুমার ও রাজপাল যাদবের এই যুগলবন্দি খুব শীঘ্রই বড় পর্দায় দেখা যেতে চলেছে প্রিয়দর্শনের আগামী ছবি ‘ভূত বাংলো’-তে। দীর্ঘ বছর পর প্রিয়দর্শন ও অক্ষয় কুমার একসঙ্গে কাজ করছেন, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে। অক্ষয়ের সঙ্গে এই ছবিতে দেখা যাবে পরেশ রাওয়াল, তাবু, ওয়ামিকা গাব্বি এবং প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা আসরানির মতো তারকাদের। আগামী ১০ এপ্রিল মুক্তি পেতে চলা এই ছবি নিয়ে ইতিমধ্যেই বলিপাড়ায় শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে।