
নব্বইয়ের দশকের সেই মায়াবী কণ্ঠ, যার জাদুতে বুঁদ হয়ে থাকত গোটা দেশ— সেই অলকা ইয়াগনিক সম্মানিত হলেন পদ্মভূষণ সম্মানে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁর হাতে। কিন্তু এই প্রাপ্তির আনন্দের মাঝেও একরাশ বিষণ্ণতা গ্রাস করেছে গায়িকাকে। ইদানীংকালের গান নিয়ে একরাশ আক্ষেপ ঝরে পড়ল শিল্পীর গলায়। কেন বর্তমান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে হতাশ তিনি? কেনই বা এখন আর নতুন কোনও গানে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না?
খবরটা প্রথম কে দিয়েছিলেন?
পদ্ম সম্মানের মতো এত বড় প্রাপ্তির খবর অলকা নিজে প্রথমে জানতেই পারেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে সায়েশা প্রথম তাঁকে এই সুখবরটি দেন। ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও শিল্পীর গলায় ছিল এক অদ্ভুত স্থিরতা। অনেক আগে এই সম্মান পাওয়া উচিত ছিল কি না, সেই প্রশ্নেও তিনি বেশ নির্লিপ্ত। তাঁর কথায়, সম্মান যখনই আসুক না কেন, তা সবসময়ই আনন্দের।
যাঁকে একসময় ‘মেলোডি কুইন’ বলা হতো, যাঁর কণ্ঠে বিরহ থেকে রোম্যান্স— সবটাই জীবন্ত হয়ে উঠত, সেই অলকা ইয়াগনিক আজকের মিউজিক ট্রেন্ড নিয়ে বেশ চিন্তিত। বর্তমানে চারদিকে র্যাপ, কান ফাটানো বিট আর রিমিক্সের ছড়াছড়ি। এই প্রসঙ্গে তিনি সোজাসুজি জানিয়েছেন, “আজকের মিউজিক তার আত্মা হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের শোনার মতো অন্তত কিছু প্রাণবন্ত ও আত্মিক সুর ফিরে আসা উচিত।” সুরের চেয়ে শোরগোল আজ বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করেন অলকা
অলকা ইয়াগনিকের ভক্তরা হয়তো লক্ষ্য করেছেন, গত কয়েক বছর ধরে তিনি জনসমক্ষ থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছেন। এর নেপথ্যে রয়েছে এক কঠিন লড়াই। ২০২৪ সালে শিল্পী নিজেই সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে, তিনি এক বিরল ‘হিয়ারিং ডিসঅর্ডার’ বা শ্রবণজনিত সমস্যায় ভুগছেন। একটি ভাইরাল অ্যাটাকের কারণে তাঁর শ্রবণশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই শারীরিক অসুস্থতার কারণেই এখন আর নতুন কোনও রেকর্ডিং করতে পারছেন না তিনি। অনেক সুরকার তাঁর কাছে প্রস্তাব নিয়ে এলেও শিল্পী তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ২০২৪-এ ইমতিয়াজ আলির ‘অমর সিং চমকিলা’ ছবিতে এ.আর. রহমানের সুরে শেষবার তাঁর কণ্ঠ শোনা গিয়েছিল।
অসুস্থতা বা অভিমান থাকলেও অলকা ইয়াগনিকের জনপ্রিয়তা আজও তুঙ্গে। শুধু তাই নয়, ২০২০ এবং ২০২১ সালে ইউটিউবে বিশ্বজুড়ে সবথেকে বেশি স্ট্রিম হওয়া শিল্পী হিসেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তুলেছেন তিনি। সাতটি ফিল্মফেয়ার থেকে শুরু করে জাতীয় পুরস্কার— প্রাপ্তির ভাণ্ডার পূর্ণ হলেও অলকা আজও সেই হারানো সুর ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন অলকা।