যাদবপুরে দেশবিরোধী স্লোগান, মোদীর তোপের পাল্টা কী বললেন ‘হোক কলরব’ পরিচালক রাজ চক্রবর্তী?
টিভি নাইন বাংলার তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয় 'হোক কলরব' ছবির পরিচালক তথা ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। রাজ স্পষ্ট জানালেন, বাংলা নিয়ে কথা বলতে হলে, বাংলার আবেগ এবং বাংলা সম্পর্কে পড়াশুনো দরকার। নইলে বিপাকে পড়তে হয়!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান। শুক্রবার বারুইপুরের জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে উঠে এল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও। যেখানে মোদী স্পষ্ট বললেন, “এক সময় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম গোটা দুনিয়ায় সম্মানের সঙ্গে নেওয়া হতো। এই ক্যাম্পাসের ভিত্তিই ছিল জাতীয়তাবাদের উপর। কিন্তু এখন ক্যাম্পাসের ভিতর হুমকি দেওয়া হচ্ছে, দেওয়ালে দেশ বিরোধী কথা লেখা হচ্ছে। যে সরকার নিজের রাজ্যের সবথেকে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে পারে না ও বাংলার ভবিষ্যত কী বাঁচাবে!” তার এ কথা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে রাজনৈতিক আঙিনায়। মোদীর এমন বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে টিভি নাইন বাংলার তরফ থেকে যোগাযোগ করা হয় ‘হোক কলরব’ ছবির পরিচালক তথা ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। রাজ স্পষ্ট জানালেন, বাংলা নিয়ে কথা বলতে হলে, বাংলার আবেগ এবং বাংলা সম্পর্কে পড়াশুনো দরকার। নইলে বিপাকে পড়তে হয়!
কী বললেন রাজ?
চলতি বছরেই মুক্তি পায় রাজ চক্রবর্তীর ছবি ‘হোক কলরব’। এই ছবির গল্প গড়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে তৈরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এক র্যাগিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। সেই ছবির প্রসঙ্গ তুলেই রাজ টিভি নাইন বাংলাকে জানান,”আমি যে ছবিটা বানিয়েছি, সেটা একেবারেই কাল্পনিক একটা র্যাগিংয়ের ঘটনাকে নিয়ে। তাই সেটার সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের কোয়ালিটি অফ পড়াশুনোর যোগাযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ালিটি অফ স্টুডেন্ট অনেক বেশি। যাঁরা কিন্তু যথেষ্ট ভালো ভালো জায়গায় স্থান পায়। আমার মনে হয়, দেশের যেকোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনও অংশে কম নয় তাঁরা। তা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হোক বা যাদবপুর কিংবা প্রেসিডেন্সি। যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সির কথা বিশেষভাবে বলতে পারি, সেখানে যাঁরা পড়ে তাঁদের , তাঁদের মেধা, তাঁদের ব্যক্তিত্বকেও অন্য চোখে দেখা হয়।”
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে তুলে রাজ জানান, ”আমাদের বাংলার যে সংস্কৃতি, বাংলার যে ইমোশন। সেখানে আমরা পাড়ার রক থেকে আরম্ভ করে, চায়ের দোকানে, কলেজের কমোন রুমে, রাজনীতি থেকে খেলাধুলো সব নিয়েই চর্চা করে থাকি। কেউ রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও, তা নিয়ে আলোচনা করতে পারে। যাই করি না কেন, সেটা গঠনমূলক আলোচনা। সেখানে ঝগড়া হয়, বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে ঝামেলাও হয়ে যায়। এটা বাংলার কালচার। এর মধ্যে দিয়ে আমরা অনেক কিছু শিখিও। আমাদের এখানে বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই রাজনীতিতে উঠে আসে কলেজ থেকে, ছাত্রজীবন থেকে। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, যাদবপুরে নিয়ে যদি কিছু বলে থাকে, তাহলে তিনি না জেনে বলেছেন। হয়তো তাঁর জানা নেই। বাংলা দখল করব বলেই হবে না, বাংলাকে জানতে হবে।”
কী লিখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সোশাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় লিখেছেন, ‘ব্যথিত হৃদয়ে জানতে চাইছি আপনি কি এভাবেই শ্রদ্ধেয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বর্ণনা করেন? এটাই কি আপনার সৌজন্যবোধ ও শিষ্টাচার? আপনার সরকারের নিজস্ব ‘এনআইআরএফ’ (NIRF) র্যাঙ্কিং-এ বছরের পর বছর শীর্ষস্থান দখল করে আসছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। আর আপনি সেই উৎকর্ষ কেন্দ্রকে এভাবে অপমান করলেন? আপনি এত নিচে নামতে পারলেন? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা মেধার জোরে নিজেদের স্থান অর্জন করে। তারা যখন ডিগ্রি নিয়ে বের হয়, তখন তাদের সঙ্গে থাকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা। এটাকে নৈরাজ্য বলে না। এটাই প্রকৃত শিক্ষা এবং এটাই উৎকর্ষ।’
