মহেশ ভাটকে নিয়মিত ২৫০০০ টাকা কেন দেন অনুপম?
এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের জানিয়েছেন, প্রতিটি ছবি থেকে অর্জিত পারিশ্রমিকের একটি নির্দিষ্ট অংশ তিনি তুলে দেন তাঁর ‘গুরু’ মহেশ ভাটের হাতে। মজার বিষয় হল, এই রীতি আজ থেকে শুরু হয়নি। যখন কেরিয়ারের শুরুতে ‘সারাংশ’ মুক্তি পেয়েছিল, তখন তিনি মাত্র ২৫০ টাকা দিয়ে এই প্রথার সূচনা করেছিলেন।

সম্পর্কের সমীকরণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। কিন্তু কিছু টান থেকে যায় আজীবন। অভিনেতা অনুপম খের এবং পরিচালক মহেশ ভাটের সম্পর্কটাও ঠিক তেমনই। কয়েক দশক আগে যে মানুষটির হাত ধরে মায়ানগরীতে নিজের পায়ের তলার মাটি খুঁজে পেয়েছিলেন অনুপম, আজও তাঁকে সম্মান জানাতে এক অদ্ভুত রীতি পালন করেন অভিনেতা। প্রতিটি ছবি শেষ করার পর মহেশ ভাটকে একটি খাম উপহার দেন তিনি। কেন এই নিয়ম? আর কেনই বা ‘সারাংশ’ ছবির সিক্যুয়েল নিয়ে এখন মহেশ ভাটের পেছনে ঘুরছেন অনুপম? সবটাই খোলসা করলেন অভিনেতা নিজেই।
এক সাক্ষাৎকারে অনুপম খের জানিয়েছেন, প্রতিটি ছবি থেকে অর্জিত পারিশ্রমিকের একটি নির্দিষ্ট অংশ তিনি তুলে দেন তাঁর ‘গুরু’ মহেশ ভাটের হাতে। মজার বিষয় হল, এই রীতি আজ থেকে শুরু হয়নি। যখন কেরিয়ারের শুরুতে ‘সারাংশ’ মুক্তি পেয়েছিল, তখন তিনি মাত্র ২৫০ টাকা দিয়ে এই প্রথার সূচনা করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, বেড়েছে অনুপমের পারিশ্রমিকও। তাই ২৫০ টাকার সেই খাম এখন ২৫ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
অনুপমের কথায়, “মহেশ হাসাহাসি করেন, বলেন এটা তো ইনফ্লেশন বা মুদ্রাস্ফীতির ফল! ২৫০ থেকে ৫০০, তারপর হাজার, ৫ হাজার হয়ে এখন অঙ্কটা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজারে।” গত সপ্তাহেই মহেশ ভাটকে তেমনই একটি খাম দিয়ে এসেছেন তিনি। এখন নাকি আর খাম খুলে দেখতে হয় না পরিচালককে, হাতে নিলেই বুঝে যান ভেতরে ঠিক কত টাকা আছে। অনুপমের কাছে এটি কেবল টাকা নয়, বরং এক গভীর শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সারাংশ’ ছবিতে ২৮ বছর বয়সি অনুপম খের এক বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সেই ছবির সিক্যুয়েল নিয়ে অন্যরকম ভাবনা রয়েছে তাঁর। অভিনেতা চান, ‘সারাংশ ২’ হোক একটি অ্যাকশন প্যাকড ছবি। লিয়াম নিসনের ‘টেকেন’ (Taken) সিরিজের মতো মারকুটে মেজাজে নিজেকে পর্দায় দেখতে চান তিনি। মহেশ ভাটকে ইতিমধ্যেই তাঁর এই ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন অনুপম। ৬৯ বছর বয়সেও নিজের শরীর নিয়ে খাটছেন তিনি, তাই অ্যাকশন হিরো হিসেবে বড় পর্দায় কামব্যাক করতে মরিয়া এই প্রবীণ অভিনেতা।
তবে বর্তমান সম্পর্ক যতটাই মধুর হোক না কেন, ‘সারাংশ’ তৈরির সময় কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই তিক্ত হয়ে গিয়েছিল যে মহেশ ভাটকে ‘জালিয়াতি’ বা ‘ফ্রড’ বলতেও ছাড়েননি অনুপম। আসলে ছবির শুটিং শুরুর ঠিক ১০ দিন আগে অনুপম জানতে পারেন, তাঁকে বাদ দিয়ে সঞ্জীব কুমারকে নেওয়া হয়েছে। রাগে-দুঃখে মুম্বই ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু যাওয়ার আগে মহেশ ভাটের সামনে দাঁড়িয়ে সপাটে বলেছিলেন, একজন ব্রাহ্মণ হিসেবে তিনি তাঁকে অভিশাপ দিচ্ছেন। অনুপমের সেই জেদ আর চোখের জল দেখেই মহেশ ভাট শেষ পর্যন্ত মত বদলান। ছবির ইতিহাস বলছে, সেই ছবিই অনুপম খেরকে বলিউডের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।
