বুড়ো বর সুখ দেয়? আরবাজের বউকে প্রশ্ন, কী উত্তর দিলেন সুরা খান?
সম্প্রতি এই ট্রোলের মুখে পড়েছিলেন অভিনেতা-প্রযোজক আরবাজ খানের স্ত্রী সুরা খান। তবে ট্রোলারদের কড়া কথা বা ক্ষোভ উগরে না দিয়ে, যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে রসিকতার ছলে সূরা পাল্টা জবাব দিয়েছেন, তা এককথায় অনবদ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং বা খোঁচা দেওয়া এখন জলভাতের মতো হয়ে গেছে। বিশেষ করে তারকাদের বয়সের ব্যবধান বা তাঁদের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে নীতিপুলিশির শেষ নেই নেটিজেনদের একাংশের। সম্প্রতি এই ট্রোলের মুখে পড়েছিলেন অভিনেতা-প্রযোজক আরবাজ খানের স্ত্রী সুরা খান। তবে ট্রোলারদের কড়া কথা বা ক্ষোভ উগরে না দিয়ে, যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে রসিকতার ছলে সূরা পাল্টা জবাব দিয়েছেন, তা এককথায় অনবদ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামের একটি ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ (Ask Me Anything) সেশনে। সেখানে অনুরাগীদের নানা ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন সুরা। ঠিক তখনই এক নেটিজেন আরবাজ ও সুরার বয়সের পার্থক্য নিয়ে কটাক্ষ করে সরাসরি প্রশ্ন বসেন, “এই বুড়ো লোকটার সাথে আপনি সত্যিই সুখী তো?” সঙ্গে জুড়ে দেন একটি হাসির ইমোজি।
কটূক্তি শুনে রেগে যাওয়া তো দূর, ট্রোলারকে এক্কেবারে বোল্ড আউট করে দেন সুরা। তিনি লেখেন, “উনি কোনও বুড়ো লোক নন, উনি আসলে একটা ‘লিমিটেড-এডিশন ভিন্টেজ মডেল’!” সুরার এই বুদ্ধিদীপ্ত ও মজাদার উত্তর মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা তাঁর এই উপস্থিত বুদ্ধির তারিফ না করে পারেননি।
আড্ডার মেজাজে আরও কিছু মজার সিক্রেট ফাঁস করেন সুরা। এক অনুরাগী জানতে চান, আরবাজের সাথে প্রথম ডেটে যাওয়ার পেছনের গল্পটা কী? সুরা হেসে জবাব দেন, “আসলে আমি ওর সাথে একটা বাজি হেরে গিয়েছিলাম, তাই নিয়ম মেনে ওকে ডিনারে নিয়ে যেতে হয়েছিল।” আর বৈবাহিক জীবন কেমন কাটছে? স্রেফ একটা শব্দে সুরা বুঝিয়ে দেন সবটা— “দারুণ!”
শুধু দাম্পত্যই নয়, এই প্রশ্নোত্তর পর্বে উঠে আসে তাঁদের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের কথাও। এক অনুরাগী জানতে চান, তাঁদের মেয়ে ‘সিপারা খান’-এর নাম কে রেখেছেন? সুরা জানান, নামটি রেখেছেন আরবাজের বাবা তথা বলিউডের কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার সেলিম খান (সেলিম আঙ্কেল)। পাশাপাশি নতুন মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে সুরা বলেন, “এটা একটা জাদুকরী জার্নি। তবে একই সাথে আমি ক্লান্ত, ভীষণ আনন্দিত এবং প্রতি ১২ সেকেন্ড অন্তর ডাক পাচ্ছি!” নতুন মায়েদের এই চিরচেনা বাস্তব লড়াইয়ের কথা সুরার মুখে শুনে অনেকেই তাঁর সাথে রিলেট করতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য, আরবাজ ও সুরার বয়সের ব্যবধান প্রায় ২৩ বছর। এই নিয়ে বিয়ের সময় থেকেই বিস্তর চর্চা হয়েছে। তবে ট্রোলিংকে কোনোদিনই পাত্তা দেননি এই জুটি। এক সাক্ষাৎকারে আরবাজ নিজে বলেছিলেন, “আমার স্ত্রী আমার চেয়ে বয়সে ছোট হতে পারে, কিন্তু ও কোনো ১৬ বছরের নাবালিকা নয়। ও নিজের ভালো-মন্দ বোঝে, আমিও বুঝি। আমরা হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। একে অপরকে চিনে, ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেই এগিয়েছি।”
প্রসঙ্গত, রভিনা ট্যান্ডন অভিনীত ‘পাটনা শুক্লা’ ছবির সেটে আরবাজ ও সুরার প্রথম আলাপ। আরবাজ ছিলেন ছবির প্রযোজক এবং সুরা ছিলেন মেকআপ আর্টিস্ট। সেখান থেকেই শুরু হওয়া এই প্রেমের গল্প আজ ট্রোলের দেওয়াল ভেঙে এক সুখী দাম্পত্যের নজির গড়ছে।
