
হাসি-ঠাট্টায় মাতিয়ে রাখাই যাঁর কাজ, সেই ভারতী সিং এবার বেজায় চটেছেন। চটার কারণও যথেষ্ট গুরুতর। ভাবুন তো, আপনি দিব্যি সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করছেন, হঠাৎ দেখলেন আপনার প্রিয় কমেডিয়ান ভারতী সিং নিজে আপনাকে রোগা হওয়ার ওষুধ বা স্লিমিং প্যাড কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন! তাও আবার তাঁর নিজের গলায়! বিশ্বাস তো করবেনই, তাই না? ঠিক এই বিশ্বাসটাকেই হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে সাইবার জালিয়াতরা। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতীর গলার স্বর হুবহু নকল করে চালানো হচ্ছে ভুয়ো বিজ্ঞাপনের রমরমা কারবার।
কী এই ‘স্লিমিং প্যাড’ জালিয়াতি?
বিপদটা ঠিক কতটা গভীরে, তা বোঝা গেল খোদ ভারতীর কথাতেই। গত রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। ভারতী জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই ইন্টারনেটে কিছু ভিডিয়ো ঘুরপাক খাচ্ছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, বিশেষ এক ধরণের ‘থিন ফুট প্যাড’ ব্যবহার করে তিনি ওজন কমিয়েছেন। শুধু দাবি করাই নয়, সেই ভিডিয়োগুলোতে যে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, তা হুবহু ভারতীর মতো। কিন্তু আসল সত্যিটা হল, ওই কণ্ঠস্বর ভারতীর নয়, বরং এআই দিয়ে তৈরি করা একটি নকল আওয়াজ বা ‘ডিপফেক অডিও’।
ভারতী সাফ জানিয়েছেন, “রোজ সকালে আমার কাছে মেসেজ আসে- ‘দিদি, এই প্রোডাক্টটা কি সত্যিই কাজ করে?’ ‘আপনি কি এই কোম্পানিকে চেনেন?’ আমি সবাইকে হাত জোড় করে বলতে চাই, আমি এদের কাউকেই চিনি না। আমার নাম এবং গলার আওয়াজ অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ জালিয়াতি।”
এই জালিয়াতি কতটা নিখুঁত, তার প্রমাণ দিতে গিয়ে ভারতী একটি মজার অথচ ভীতিজনক তথ্য শেয়ার করেছেন। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, খোদ ভারতীর নিজের মা-ও এই ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছিলেন! ভিডিয়োটি দেখে তিনি বিশ্বাস করে বসেন যে তাঁর মেয়ে সত্যিই বোধহয় এমন কোনও পণ্যের প্রচার করছেন। মায়ের ফোনেই টনক নড়ে কমেডিয়ানের। তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টা আর স্রেফ ট্রোলিং বা রসিকতার পর্যায়ে নেই, এটা একটা বড়সড় আর্থিক প্রতারণার ছক।
ভারতী সিং পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এই ধরণের কোনও স্লিমিং প্রোডাক্ট বা ওজন কমানোর জাদুর সরঞ্জামের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগসূত্র নেই। স্লিমিং প্যাড বা ওই জাতীয় কোনও কিছু তিনি কোনওদিন ব্যবহার করেননি এবং কাউকে করার পরামর্শও দেননি। ডিজিটাল এই যুগে চোখ-কান বুজে কাউকে বিশ্বাস না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে যে সব বিজ্ঞাপনে অবিশ্বাস্য দাবি করা হয়, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করা এখন সবথেকে জরুরি বলে জানিয়েছেন তিনি।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেমন আমাদের কাজ সহজ করছে, তেমনই অপরাধীদের অপরাধও বাড়ছে। ভারতী সিংয়ের এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ইন্টারনেটে যা দেখছেন বা শুনছেন, তার সবকিছুই সত্যি নাও হতে পারে। তাই প্রিয় তারকার ভিডিয়ো দেখে কিছু কেনার আগে সতর্ক হন।