
বিগ বস বাংলা (Bigg Boss Bangla)-র ঘরে এখন রীতিমতো বারুদের গন্ধ! রাজনীতি টাস্ক শেষ হতে না হতেই বাথরুম এরিয়ায় যেন বোম ফাটল। এক সময়ের কাছের বন্ধু রাজবীর দে, জীতু কমল, মনামী ঘোষ আর নন্দিনী দত্তর মধ্যে চরম অশান্তি। ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা গেল, বন্ধুত্বের দেওয়ালে বেশ বড়সড় ফাটল ধরেছে।
বাথরুমের আড্ডায় কী ঘটে?
ঘটনার সূত্রপাত রাজবীরকে ‘গুণ্ডা’ বলা নিয়ে। রাজবীরের তুমুল রাগ, তাঁকে যখন অন্যেরা গুণ্ডা বলছিল, তখন দলের কেউ কেন প্রতিবাদ করল না! জীতুর দিকে আঙুল তুলে রাজবীর বেশ ঝাঁঝালো গলায় বলেন, “আমাকে তো বের করে দিয়েছ। ওরা যখন গুণ্ডা বলল, তখন কি স্ট্যান্ড নিয়েছ?” জবাবে জীতু একটু শান্ত গলায় বোঝানোর চেষ্টা করেন, “আমরা তো পার্টি করছি।” কিন্তু তাতে চিঁড়ে ভেজেনি। রাজবীরের পাল্টা জবাব, “আমিও তো পার্টির কর্মী। দরকারের সময় তো ঠিকই সঙ্গে রেখেছিলে, কাজও করেছি।”
‘তুই সেলফিশ’, তোপ নন্দিনীর
ঝগড়ার পারদ চড়তেই আসরে নামেন নন্দিনী দত্ত। সটান প্রশ্ন করেন, “এই তোর প্রায়োরিটি আমি?” রাগের মাথায় রাজবীরও বলে বসেন, এই গেমে তাঁর কোনও প্রায়োরিটি নেই। ব্যস, এই কথাতেই রেগে আগুন নন্দিনী। রাজবীরকে সোজা ‘সেলফিশ’ বা স্বার্থপর বলে দাগিয়ে দেন তিনি। রাজবীরও জানিয়ে দেন, তাঁর কোনও আপত্তি নেই, তিনি এবার থেকে একাই খেলবেন। ঠিক এই সময়েই ফোড়ন কাটেন মনামী। তাঁর স্পষ্ট ইঙ্গিত, রাজবীর মোটেই একা খেলছেন না, বরং তলে তলে দুর্নিবারের দলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। রাজবীর অবশ্য বেশ নির্লিপ্ত ভাবেই বলেন, “যা মনে করার করো।”
আগামীতে কী হতে চলেছে?
মজার বিষয় হল, ভিতরে এত ঝগড়া হলেও, বাইরে পার্টির প্রচারে কিন্তু রাজবীরের পক্ষেই কথা বলেছেন জীতু। জনগণ অবশ্য এই ব্যাপারটা খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি। অন্যদিকে, সামনেই আসছে ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক। নমিনেশনের খাঁড়া থেকে বাঁচতে সেখানে নাকি রাজবীরকে সেভ করবেন নন্দিনী! এই প্ল্যান শেষমেশ সফল হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।
ইতিমধ্যেই ঘরে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে এসেছেন রাজবীর আর জীতু। গেম থেকে বাদ গিয়েছেন জয়িতা, অ্যালেক্সজান্দ্রা, সায়ক এবং সোহিনী পাল। নতুন এন্ট্রি নিয়েছেন অনুষ্কা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় বিগ বসের ঘরে প্রতি মুহূর্তে রং বদলাচ্ছে। কখনও ঝগড়া, তো কখনও আবার নতুন সমীকরণ। এই খেলায় কে কবে বন্ধু থেকে শত্রু হয়ে যায়, তা আগে থেকে বলা বড়ই কঠিন!