Bigg boss bangla: রাজবীরের হার, সৃজলার জয়! চোখ বাঁধা রুদ্ধশ্বাস গোলকধাঁধায় কেন বাতিল হলেন রাজবীর?

Bigg Boss Bangla Srijla: লাক্সারি বাজেট পেতে বিগ বসের বাড়িতে হয় রুদ্ধশ্বাস লড়াই। গোলকধাঁধায় হামাগুড়ি দিতে গিয়ে মাঝপথেই বাতিল রাজবীর! তবে জীতু-ভরতদের অত্যাচার সামলে শেষমেশ বাজি মাত করলেন সৃজলা। খুশি হয়ে প্রতিযোগীদের কী এমন উপহার দিলেন বিগ বস?

Bigg boss bangla: রাজবীরের হার, সৃজলার জয়! চোখ বাঁধা রুদ্ধশ্বাস গোলকধাঁধায় কেন বাতিল হলেন রাজবীর?
কী ঘটেছে বিগ বসের ঘরে?

Oct 16, 2026 | 8:44 AM

বিগ বস বাংলার অন্দরমহল মানেই রোজ নতুন চমক, নতুন সমীকরণ। কখনও সেখানে জমাট বাঁধা বন্ধুত্ব, কখনও আবার চরম শত্রুতা। তবে বৃহস্পতিবারের এপিসোডটা একেবারেই অন্যরকম। বিগ বসের বাড়িতে এদিন যেন টানটান উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছায়। লাক্সারি বাজেট টাস্ককে ঘিরে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা বাড়ি! তবে এবারের আলোচনার কেন্দ্রে কোনও ঝগড়া নয়, বরং একটি অদ্ভুত গোলকধাঁধা এবং সৃজলার অদম্য জেদ।

সপ্তাহের লাক্সারি বাজেট পেতে গেলে প্রতিযোগীদের পার করতে হবে কঠিন হার্ডল। বিগ বসের নির্দেশমতো দুটি দলে ভাগ হয়ে যান ঘরের বাসিন্দারা। শুরু হয় এক রুদ্ধশ্বাস গোলকধাঁধা পার করার খেলা। নিয়মটা হল তিনজন প্রতিযোগীকে এই গোলকধাঁধায় ঢুকে হামাগুড়ি দিয়ে পথ খুঁজতে হবে। ঢোকা এবং বেরনোর পথের নানা বাঁকে লুকিয়ে রাখা আছে চারটি ‘ডায়মন্ড’। সেগুলো খুঁজে বের করে ফের হামাগুড়ি দিয়েই বাইরে আসতে হবে।

ভাবছেন, এ আর এমন কী কঠিন কাজ? আসল মজা তো এখানেই! বিগ বস এই টাস্কে জুড়ে দিয়েছেন তিনটি শর্ত। প্রথমত, যে প্রতিযোগী গোলকধাঁধায় ঢুকবেন, তাঁর চোখ সম্পূর্ণ বাঁধা থাকবে। বাইরের দুনিয়া তাঁর কাছে পুরোপুরি অন্ধকার! পার্টনারের চিৎকার করে দেওয়া নির্দেশাবলিই তাঁর একমাত্র সম্বল। দ্বিতীয়ত, বিপক্ষ দলের সদস্যরা চুপ করে বসে থাকবেন না। তাঁরা ক্রমাগত চিৎকার করে, ভুল নির্দেশ দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবেন। শুধু তাই নয়, হামাগুড়ি দেওয়া প্রতিযোগীর গায়ে রং ও ছাই ছুড়ে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ করে তুলবেন। আর তৃতীয় শর্তটি হল সবথেকে কঠিন, হামাগুড়ি ছেড়ে সামান্য উঠলেই সরাসরি খেলা থেকে বাতিল!

এই কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে গোলকধাঁধায় প্রবেশ করেন সৃজলা, রাজবীর এবং মনামী। সৃজলার চোখ বাঁধা, আর বাইরে থেকে তাঁকে গাইড করার দায়িত্বে ছিলেন দুর্নিবার। অন্যদিকে রাজবীরকে নন্দিনী এবং মনামীকে সাহায্য করছিলেন সোনামণি। বিপক্ষ দলে থাকা জীতু, ভরত কল এবং তনুশ্রীরা নিজেদের কাজটা বেশ মন দিয়েই করেছেন। প্রতিযোগীদের বিভ্রান্ত করতে এবং তাঁদের দিকভ্রষ্ট করতে চেষ্টার কোনও খামতি রাখেননি তাঁরা। রং, ছাই আর চিৎকারের মধ্যে টিকে থাকাটা ছিল পরীক্ষা।

চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রাজবীর শেষমেশ ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন এবং খেলা থেকে বাতিল হয়ে যান। মনামী টাস্ক শেষ করতে পারলেও, সবার নজর কাড়েন সৃজলা। প্রবল বাধা আর বিভ্রান্তির মধ্যেও তিনি একবারের জন্যও হামাগুড়ি দেওয়া থামাননি বা নিয়ম ভাঙেননি। একেবারে নিখুঁতভাবে টাস্ক সম্পন্ন করে শেষ হাসি হাসেন তিনিই। সঞ্চালক নিরঞ্জন যখন সৃজলার জয়ের কথা ঘোষণা করেন, তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে তাঁর দল। অন্যদিকে, বিপক্ষ দলকে বিভ্রান্ত করার কাজটা দারুণভাবে করার জন্য দলগতভাবে জয়ী হয় জীতু-ভরত-তনুশ্রীদের টিম।

তবে চমকের এখানেই শেষ নয়! বিগ বসের মন জয় করা যে কতটা কঠিন, তা দর্শকরা ভালো করেই জানেন। কিন্তু প্রতিযোগীদের এমন দুরন্ত পারফরম্যান্স আর জেদ দেখে স্বয়ং বিগ বসও মুগ্ধ। কোনওরকম কৃপণতা না করে এ সপ্তাহের গোটা লাক্সারি বাজেটটিই তিনি পুরস্কার হিসেবে দিয়ে দেন। এই অভাবনীয় ঘোষণায় ঘরের আবহ পুরোপুরি বদলে যায়। সমস্ত ক্লান্তি আর দ্বন্দ্ব ভুলে প্রতিযোগীরা মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা উল্লাসে।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us