
বিগ বসের ঘরে সমীকরণ বদলাতে এক মুহূর্তও সময় লাগে না। এবার ঘরের অন্দরে সৃজলার দ্বৈত রূপ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সোনামণি। আর সেই বিতর্কের সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়ল রাজবীর এবং নন্দিনীর সম্পর্কের উপর। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, শেষ পর্যন্ত সৃজলার কারণে নিজেদের মধ্যে তুমুল ঝামেলায় জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা গিয়েছে নন্দিনীকে। কিন্তু ঠিক কী থেকে এই অশান্তির সূত্রপাত?
সোনামণির অভিযোগ, সৃজলা তাঁর বন্ধুদের স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, যাঁরা নন্দিনী এবং রাজবীরের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁরা যেন সৃজলার সঙ্গে না মেশেন। বিশেষ করে নন্দিনীর সঙ্গে কথা বলতে কড়া নিষেধ করেছিলেন তিনি। অথচ বন্ধুদের বারণ করলেও, সৃজলা নিজেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা নন্দিনীর সঙ্গে গল্প করছেন। এই বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে পারেননি সোনামণি। তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন নিরঞ্জনও। যদিও সৃজলা এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ করেন। তাঁর দাবি, তিনি কথা বলছেন ঠিকই, কিন্তু রাজবীর বা নন্দিনী কাউকেই তাঁর পছন্দ নয়। এই নিয়ে সোনামণি এবং সৃজলার মধ্যে রীতিমতো তর্কাতর্কি শুরু হয়।
তবে আসল ঘটনার সূত্রপাত হয় ডাইনিং টেবিলের কাছে। সেখানে সৃজলা হঠাৎই দাবি করেন, অতীতে রাজবীর সরাসরি তাঁকে পছন্দ করার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নাকি মুখের উপর ‘না’ করে দেন। এই কথা শুনেই মেজাজ হারান রাজবীর। তিনি স্পষ্ট জানান, সৃজলা কখনওই তাঁকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং বলেছিলেন, কোনও স্তরে যেতে তাঁর একটু সময় লাগে। উল্লেখ্য, এই পুরো ঘটনাটি রাজবীর এবং নন্দিনীর সম্পর্কে আসার আগের।
এরপরই পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়। নন্দিনী এবং সৃজলার আলোচনার মাঝে ‘দাদার দরবার’-এর প্রসঙ্গ ওঠে। সৃজলা অভিযোগ করেন, দাদার দরবারের সাজ দেখে পরে রাজবীর তাঁকে বলেছিলেন যে, “মেকআপ ছাড়া তোমাকে বেশি সুন্দর লাগে!” এবং সৃজলার মেকআপ ঠিকঠাক ছিল না বলে তাঁকে জানান রাজবীর। সৃজলার প্রশ্ন, এই কথা বলার অধিকার রাজবীরকে কে দিয়েছে? পরিস্থিতি সামাল দিতে নন্দিনী জানান, তিনি এবং রাজবীর দু’জনে মিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলেই রাজবীর ওই কথাটি বলেছিলেন।
কিন্তু এই সামান্য কথা কাটাকাটি মুহূর্তের মধ্যে বড় আকার ধারণ করে। রাজবীর ও নন্দিনীর মধ্যে তুমুল অশান্তি শুরু হয়। একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। শেষমেশ নিজেদের মধ্যে এই ঝামেলায় জড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন নন্দিনী।
অন্যদিকে, ঘরের এই চরম উত্তেজনার মাঝেই আসে এক মন খারাপ করা খবর। শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঝপথেই বিগ বসের ঘর থেকে বিদায় নিতে হল ঝিলম গুপ্তকে। চিকিৎসকদের কড়া পরামর্শেই তাঁকে শো থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নির্মাতারা। ঝিলমের এই আচমকা বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সহ-প্রতিযোগীরা। বিগ বসের ঘরের এই নতুন সমীকরণ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।