
টেলিভিশনের পর্দায় রিয়্যালিটি শো মানেই দর্শকদের জন্য টানটান উত্তেজনা আর ভরপুর ড্রামা। তবে এবার বিগ বসের ঘরে যা ঘটল, তা রীতিমতো হতবাক করার মতো। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনেই তুমুল বচসায় জড়ালেন প্রতিযোগীরা। একটি সাধারণ পারফরম্যান্স মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি পারফরম্যান্সকে কেন্দ্র করে। মঞ্চে তখন একসঙ্গে অভিনয় করছিলেন জিতু, নন্দিনী এবং ঝিলম। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘অ্যাকশন’ বলার পরই শুরু হয় নাটক। কিন্তু অভিনয়ের মাঝপথেই হঠাৎ তাল কাটে। ইমপ্রোভাইজ করতে গিয়ে আচমকা ঝিলমের মুখে মুখ থেকে একটি ললিপপ ছুঁড়ে মারেন জিতু। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। হঠাৎ হওয়া এই ঘটনায় রীতিমতো হকচকিয়ে যান ঝিলম। তিনি তৎক্ষণাৎ পারফরম্যান্স থামিয়ে দেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই ধরনের কাজের পর তাঁর পক্ষে অভিনয় চালিয়ে যাওয়া কোনও মতেই সম্ভব নয়। রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জানান যে তিনি অপমানিত বোধ করছেন।
ঝিলাম মাঝপথে অভিনয় থামিয়ে দেওয়ায় মেজাজ হারান জিতুও। তাঁর দাবি, অভিনয়ের খাতিরে এমন অনেক কিছুই করতে হয়। ইমপ্রোভাইজেশন তো অভিনয়েরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি সাফ বলেন, “সবকিছুতেই হিউমিলিয়েটেড! তুমি অ্যাক্টিং জানো, স্ক্রিপ্ট লিখতে জানো, তাহলে এটা ছোঁড়া যায় না?” জিতুর মতে, পারফরম্যান্সের মাঝখানে কখনওই অভিনয় থামানো উচিত নয়। তাঁর যুক্তি, পারফরম্যান্স শেষ করে তবেই অভিযোগ জানানো উচিত ছিল। দর্শকদের এন্টারটেইন করা থেকে মাঝপথে বিরত হওয়াটা একেবারেই অপেশাদারিত্বের পরিচয়। জিতু এমনও জানান যে, ইমপ্রোভাইজ করতে গিয়ে গায়ে গোবর পর্যন্ত লেপে দেওয়া হয়, তাই বলে অভিনয় থামিয়ে দেওয়া যায় না। রাজবীরের মতে, মুখে ওইভাবে ললিপপ ছোঁড়াটা একদমই ঠিক হয়নি।
অন্যদিকে, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় ঝিলাম। তাঁর বক্তব্য, ললিপপ ছোঁড়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি আগে থেকে বিন্দুবিসর্গও জানতেন না। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে কেউ যদি মুখে কুলকুচি করে জলও দেয়, তিনি তা মেনে নিতে রাজি। কিন্তু আচমকা এই ধরনের ঘটনা ঘটলে যে কারও মাথা ঘেঁটে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন খোদ ‘দাদা’। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেন বিনোদন জগতের সেই চিরন্তন সত্য, ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’। অর্থাৎ, যাই ঘটুক না কেন, শো চালিয়ে যেতেই হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, পারফরম্যান্সের আগে ব্যাকরুমে প্রতিযোগীদের নিজেদের মধ্যে সমস্ত দৃশ্য ও ইমপ্রোভাইজেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে নেওয়া উচিত ছিল। একে অপরের সঙ্গে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নিলে হয়তো মঞ্চের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হত না। জিতু আর ঝিলমের এই ঝামেলার পরিণতি কী? সেই উত্তর সময় বলবে।