রাজেশ খান্নার ‘গোপন স্ত্রী’ কি অনিতা? ১৪ বছরের আইনি লড়াই শেষে কী জানাল বম্বে হাই কোর্ট?

২০১২ সালে রাজেশ খান্নার মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় সমস্যা। অনিতার অভিযোগ ছিল, অভিনেতার মৃত্যুর ঠিক পরেই তাঁকে তাঁর আইকনিক বাংলো 'আশীর্বাদ' থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। দাবি করেন, তাঁদের সম্পর্কটা কেবল লিভ-ইন ছিল না, ছিল আস্ত একটা সংসার।

রাজেশ খান্নার ‘গোপন স্ত্রী’ কি অনিতা? ১৪ বছরের আইনি লড়াই শেষে কী জানাল বম্বে হাই কোর্ট?

Apr 02, 2026 | 6:30 PM

বলিউডের সুপারস্টার রাজেশ খান্নাকে নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। রুপোলি পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেতার প্রয়াণের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা থামার নামগন্ধ নেই। তবে এবার থামল এক দীর্ঘ আইনি লড়াই। নিজেকে রাজেশের স্ত্রী দাবি করে আসা অভিনেত্রী অনিতা আডবাণীর আরজি শেষমেশ খারিজ করে দিল বম্বে হাই কোর্ট। ১৪ বছর ধরে চলা এই বিতর্কে আপাতত জল ঢেলে দিল আদালত। ঠিক কী ঘটেছিল?

অনিতা আদভানির দাবিগুলো ছিল অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, রাজেশ খান্নার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্রেফ বন্ধুত্বের ছিল না। এমনকি ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে বিয়ের আগেও নাকি অনিতা তাঁর জীবনে ছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, লোকচক্ষুর আড়ালে বাড়ির এক ছোট মন্দিরে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। রাজেশ খান্না নাকি নিজেই তাঁকে মঙ্গলসূত্র পরিয়ে দিয়েছিলেন এবং মাঝরাতে তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে বলেছিলেন, “আজ থেকে তুমি আমার দায়িত্ব।” ইন্ডাস্ট্রির সবাই এই সম্পর্কের কথা জানতেন, কিন্তু কেউ নাকি মুখ খুলতেন না।

২০১২ সালে রাজেশ খান্নার মৃত্যুর পর থেকেই শুরু হয় সমস্যা। অনিতার অভিযোগ ছিল, অভিনেতার মৃত্যুর ঠিক পরেই তাঁকে তাঁর আইকনিক বাংলো ‘আশীর্বাদ’ থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। দাবি করেন, তাঁদের সম্পর্কটা কেবল লিভ-ইন ছিল না, ছিল আস্ত একটা সংসার। যদিও রাজেশের পরিবার— অক্ষয় কুমার, টুইঙ্কল খান্না এবং ডিম্পল কাপাডিয়া এই দাবিকে স্রেফ বুজরুকি বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। দিন্দোশি সেশন কোর্ট অনিতার আবেদন আগেই নাকচ করেছিল, এবার বম্বে হাই কোর্টও সাফ জানিয়ে দিল— অনিতাকে রাজেশ খান্নার আইনি স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়।

মামলা চলাকালীন অনিতা এমন সব তথ্য সামনে এনেছিলেন যা শুনে বেশ অবাক হয়েছিলেন সকলে। তাঁর দাবি ছিল, এই সম্পর্কে কেবল প্রেম ছিল না, ছিল চরম তিক্ততাও। রাজেশ খান্না নাকি মেজাজ হারিয়ে মাঝেমধ্যেই তাঁকে মারধর করতেন। অনিতা এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, “ও আমাকে মারলে আমিও পাল্টা মারতাম। এটা আমার রিফ্লেক্স অ্যাকশন ছিল। পরে ও অভিযোগ করত আমার নখ লেগে ওর হাত কেটে গিয়েছে।” এই তিক্ততা আর আইনি জটিলতা কাটিয়ে রাজেশ খান্নার পরিবার এখন স্বস্তিতে থাকলেও, বি টাউনের অন্দরে প্রশ্নটা রয়েই গেল— অনিতা কি তবে সত্যিই কেবল এক ‘ছায়াসঙ্গী’ ছিলেন, নাকি অন্য কোনও সত্য রয়ে গিয়েছে?

 

Follow Us