Chiranjeet Chakraborty: তৃণমূলের পতন হবে জেনেই টিকিট নেননি চিরঞ্জিত?
Chiranjeet Chakraborty on Film Industry and TMC: তৃণমূলের পতন হবে জেনেই টিকিট নেননি চিরঞ্জিত? টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বারাসতের বিদায়ী বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী স্পষ্টই বলে দিলেন, ঠিক কী কারণে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কাছে? কেন সরে আসতে চেয়েছেন রাজনীতি থেকে?

বাংলায় পদ্মজয়। তৃণমূলের ভরাডুবি। সোশাল মিডিয়ায় এখন শুধুই ট্রোলের মুখে তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়করা। নেটপাড়ার একাংশ তো ধরেই নিয়েছে, বাংলার মসনদে বিজেপি আসার পর হয়তো তৃণমূল থেকে পাল্টি খেয়ে গেরুয়া শিবিরে আসবেন অনেকেই। মূলত, এমন ট্রোল সিনেমাপাড়াকে নিয়েই। এমন ট্রোল তৃণমূলের তারকা প্রার্থী, তারকা সমর্থকদের নিয়েই সবচেয়ে বেশি। ঠিক এরই মাঝে টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বারাসতের বিদায়ী বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী স্পষ্টই বলে দিলেন, ঠিক কী কারণে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কাছে? কেন সরে আসতে চেয়েছেন রাজনীতি থেকে?
ঠিক কী বলেছেন চিরঞ্জিত?
টলিউড সুপারস্টার। এক সময় চিরঞ্জিতের হাতে থাকত বাংলার বক্স অফিস। একের পর এক ছবি সুপারহিট। সুপারস্টারের সেই ম্যাজিককে কাজে লাগিয়েই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে দু-দুবার প্রার্থী করেছিলেন বিধানসভা নির্বাচনে। জিতেও ছিলেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের অন্দরে এবং প্রকাশ্য়ে চিরঞ্জিত বারংবার বলেছিলেন তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসতে চান। ফের টিকিট চান না। শেষমেশ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরঞ্জিতের অনুরোধ রেখেছিলেন। তাঁকে ভোটে দাঁড়াতে হয়নি। আর এবার ভোটের রেজাল্টে তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে কী বলছেন চিরঞ্জিত? তিনি কি আগে থেকেই আঁচ পেয়েছিলেন? তাই সরে আসতে চেয়েছিলেন?
টিভি নাইন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চিরঞ্জিত প্রথমেই বললেন, ”আমি এখন উড়ন্ত পাখি, কোন পার্টিতে নেই, কোনও সরকারি পদ নেই, যেমনটি অরাজনৈতিক ছিলাম, তেমনটিই হয়ে গিয়েছি আবার।” ভোটের রেজাল্টে তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে বলতে গিয়ে চিরঞ্জিত বলেন, ” হয়তো এরকমই হয়, ৩৪ বছর ধরে থাকার পর যেমন বামফ্রন্ট জায়গাটা মজবুত করতে পারেনি। তাই ৩৪ বছর বাদেও তাঁরা ২০১১ -তে বড় বিপর্যয় ঘটে। তবে তৃণমূলের ক্ষেত্রে একটু বেশি, সেবার আমরা কিন্তু ২০০ আসন পায়নি। তবে এখন মনে হচ্ছে, এই ধরনের যখন পরিবর্তন হয়, তখন জনরোষ তৈরি হয়। জনতা সব বোঝে। সরকার যাঁরা চালায় তাঁরা হয়তো ভুলে যায়, তাঁদের ভাবা উচিত যে, সবাই সব জানেন, যেমন মা সব জানেন, তেমন জনতাও সব জানেন, ভোটের আগে বোঝা যায় না। তাঁদের কাছে সব হিসেব রয়েছে। সব নোট করতে থাকে জনতা। ভালো-খারাপ সবের হিসেব থাকে। আমরা যতই বক্তৃতা দিয়ে বলি না কেন, আমরা যা করছি ভালো করছি, অন্যরা খারাপ করবে, আমি যতদিন রাজনীতিতে ছিলাম, ততদিন আমরা বলেছি। আসলে কাজটা করেই দেখাতে হয়। টক লেস ওয়ার্ক মোর। কথা কম, কাজ বেশি।”
তৃণমূলের টিকিট না নেওয়া নিয়ে বলতে গিয়ে চিরঞ্জিত জানালেন, ”গত কয়েক বছর ধরে যে সময় চলছিল, এটা আমার রাজনীতিতে আসার পর ছিল না। ইডি, সিবিআই এসে বার বার হানা দিচ্ছিল। সবাইকে তুলছিল। আমি যখন রাজনীতিতে এসেছিলাম, তখন একটা অন্য আইডিয়া চলছিল। স্লোগান দিতে হত, মিছিল করতে হত। একজন ফিল্মস্টার হিসেবে,পাবলিকের মধ্যে গিয়ে এসব পারি না করতে, আমি যদি সাধারণ মানুষের পাশে হাঁটি, ঘামে ঘাম মিলিয়ে ফেলি, রকে বসে, ফুটপাথে বসি, তাহলে হয়তো রাজনীতিটা হবে, কিন্তু সিনেমা নয়। সিনেমাই আমার প্রথম পরিচয়। আমি ফিল্মস্টার বলেই তো ভোট দিয়েছে আমাকে। রাজনীতিতে তো আমি হঠাৎ এসেছি। এই কারণেই আমার মনে হয়েছিল, এই জায়গাটা আমার নয়।”
চিরঞ্জিত জানালেন, ”নেগেটিভিটি জমতে আরম্ভ করেছিল। কাটমানি না নেওয়া, মানুষের জন্য ভাবা, পাশে দাঁড়ানো, এমএলএ হিসেবে যে টাকা আমরা পেতাম, সেটা মানুষেরই টাকা, মানুষেরই উপকারে, ঠিক মতো ব্যয় করা। শেয়ার না নেওয়া। এসব তো হচ্ছিল না। তার উপর পর পর আসছিল, কামদুনি, পার্কস্ট্রিট, আরজিকরের মতো ঘটনা। আমার মনে হচ্ছিল মানুষের জন্য ঠিকমতো কাজ করা হচ্ছে না। সেই রাতে কলকাতা শহরে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় করে বুঝিয়ে দিয়েছিল তাঁরা কী চায়। কিন্ত আমরা সেটা শুনলাম না। তবে এখানে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আগে থেকে ভোটের ফল বুঝে সরে এসেছি এটা নয়, তবে এটা জানতাম একদিন পড়বে। আসলে, একটা সময়ের পর অহংকার বাড়ে, ঔদ্ধত্য বাড়ে, এটা হয়। ধাক্কা খাবে সেটা বুঝতে পেরেছিলাম। তবে এতটা জোরে ধাক্কা খাবে, বোঝা যায়নি। কেননা আমরা কাজও করেছিলাম। ভাতা ছিল, দুয়ারে সরকার ছিল। বদনাম হয়তো ছিল। কিন্তু এই কাজের একটা এফেক্ট ছিল। এসআইআরের কারণে বহু মানুষ ভোট দিতে পারেনি। সেটাও উচিত হয়নি।”
বিজেপি আসায় কি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে রাজনীতি দূর হবে?
এই প্রশ্নের উত্তরে চিরঞ্জিত বলেন, ”একটা রাজনৈতিক চাপ তো ছিলই। হয়তো সেটা কেটে গেল। ভবিষ্যতে কী হবে জানি না। নতুন সরকারের কাছে প্রচুর আবদার থাকবে। টলিউডে আমরা আমাদের কাজ করে যাব। সব আর্টিস্ট কাজ করবে। আমি এখন রং মুক্ত। ইন্ডাস্ট্রি বড় কষ্ট আছে। ইন্ডাস্ট্রিকে আমরা বাঁচব। ফিনান্স আনা যায়, সাধারণ মেম্বারদের সুবিধা আনা যায়, সেটাই এখন ভাবার। অনেকের সঙ্গে কথা হচ্ছে। অরাজনৈতিকভাবে আমরা চেষ্টা করছি। পুজোর সময় নতুন অনুষ্ঠান করার চেষ্টা। ফান্ড তৈরি করার কথা। তবে আগামী ৫ বছর সুন্দর দেখছি। প্রথম পাঁচবছর ভালই করে, পরেই পথভ্রষ্ট হয়। আশা করছি এই পার্টি ভালই করবে। চাকরির অভাব, অর্থের অভাব, হয়তো এরা দূর করবে। ডবল ইন্জিন সরকার হয়তো সুবিধা হবে। পাবলিকও হয়তো সেটাই ভেবেছে।
তবে সাক্ষাৎকার শেষে চিরঞ্জিত আবার মনে করিয়ে দিলেন, ”আমি দূরদ্রষ্টা নই, পতন হবে বুঝতে পেরেছিলাম বলেই আমি সরে এসেছি, এটা কিন্তু নয়। আমি এতটা স্বার্থপর নই। আমি ভেবেছিলাম সরকার চলবে। হয়তো অল্পবিস্তর ক্ষয় হবে, পতন ভেবে আমি সরে আসার কথা ভাবিনি। আমি আমার অক্ষমতার জন্য ছেড়েছি। নিজের কাজ করার জন্য ছেড়েছি। এবার ছবি আঁকতে চাই, গান গাইতে চাই, মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। রাজনীতি চাই না,তবে টলিউড নিয়ে বলতে পারি, আমাদের সংগঠন থাকুক। ফ্লোরে ঢুকলে যেন রাজনীতি গাড়িতে রেখে আসেন সবাই।”
