‘একদিনও যায় না যেদিন আমি ওঁর কথা ভাবি না’, আশা ভোঁসলে কে নিয়ে কী বললেন উষা?
বাঙালি শ্রোতাদের কাছে আশা ভোঁসলে এক গভীর আবেগের নাম। তাবড় তাবড় সুরকারদের তিনি ছিলেন প্রথম পছন্দ। ‘মন মেতেছে মন ময়ূরী’ বা ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ আজও প্রত্যেক বাঙালির স্মৃতিতে অমলিন। আর ডি বর্মনের সুরে ‘এনে দে রেশমি চুড়ি’ বা ‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালো’ ছাড়া পুজোর আড্ডা আজও অসম্পূর্ণ।

ভারতীয় সংগীতের একটি স্বর্ণালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল। সুরের সম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে আর নেই। লতা মঙ্গেশকরের বিদায়ের পর আশাজির প্রয়াণ যেন সংগীতের আকাশ থেকে শেষ উজ্জ্বল নক্ষত্রটিরও বিদায়। গত আট দশক ধরে যাঁর কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ হয়ে থেকেছে আসমুদ্রহিমাচল, সেই চিরযৌবনা সুর আজ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। কিংবদন্তি এই গায়িকার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সারা দেশ। তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রিয় মানুষ ঊষা উত্থুপ এই খবর পাওয়ার পর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। স্মৃতিরোমন্থন করেছেন তাঁর প্রিয় ‘আশা দি’-র।
টিভি ৯ বাংলাকে উষা বলেছেন তিনি সবে বাড়ি ফিরে খবর পেয়েছেন, ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন উষা। তিনি বলেছেন “আশা জি চলে গিয়েছেন, এটা ভাবতেই পারছি না। আবার সারাজীবনের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে ওনার সঙ্গে। উনি আমার জীবনেরই অংশ। একদিনও যায় না যেদিন আমি ওনার কথা ভাবিনা। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আজ নিভে গেল। তিনি শুধু একজন মহান গায়িকাই ছিলেন না, ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ। তাঁর গান এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব আমাদের সকলের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল দিদি আর বোনের মতো। তাঁর এই চলে যাওয়া সংগীত জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি যেখানেই থাকুন, শান্তিতে থাকুন। ওঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।” অসাধারণ গান উপহার দেওয়ার জন্য আশা ভোঁসলেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
১৯৩৩ সালে এক সংগীত পরিবারে জন্ম নেওয়া আশার জীবনটা মোটেই সহজ ছিল না। মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরকে হারানোর পর দিদি লতার হাত ধরে অভাবের সংসারে হাল ধরতে পেশাদার সংগীতে পা রেখেছিলেন তিনি। দিদির বিপুল খ্যাতির ছায়ায় নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করাটাই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৪৮ সালে ‘চুনরিয়া’ ছবিতে প্রথম প্লে-ব্যাক থেকে শুরু করে আজকের যুগ— সবখানেই তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
বাঙালি শ্রোতাদের কাছে আশা ভোঁসলে এক গভীর আবেগের নাম। তাবড় তাবড় সুরকারদের তিনি ছিলেন প্রথম পছন্দ। ‘মন মেতেছে মন ময়ূরী’ বা ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ আজও প্রত্যেক বাঙালির স্মৃতিতে অমলিন। আর ডি বর্মনের সুরে ‘এনে দে রেশমি চুড়ি’ বা ‘একটা দেশলাই কাঠি জ্বালো’ ছাড়া পুজোর আড্ডা আজও অসম্পূর্ণ।
ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মবিভূষণ’ ও ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে সম্মানিত করেছে। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তাঁর নাম বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক গান রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আজ আশা নেই, পড়ে রইল শুধু তাঁর অফুরন্ত ভালোবাসা আর সুরের জাদু।
